বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

জনসচেতনতায় চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ মহড়া

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
জনসচেতনতায় চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ মহড়া

জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্যোগে দ্রুত ও কার্যকরভাবে আগুন প্রতিরোধ ও নির্বাপণের লক্ষ্যে চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী হকার্স মার্কেটে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে চাঁদপুর শহরের হকার্স মার্কেটের সামনে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। মহড়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় কীভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, কীভাবে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভাতে হবে এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করবেন—এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী করা হয়।

মহড়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডের কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করে আগুন নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণকে অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা হয়। বিশেষ করে দোকানপাটে বৈদ্যুতিক সংযোগ, দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার এবং আগুন লাগার পর করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মৃধা।

Model Hospital

এ সময় চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আগুন লাগার পর আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে। মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা এবং সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের ধারণা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শুধু ফায়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর না করে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগুন মোকাবিলার সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা সম্ভব।

এ সময় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, নিরাপদে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতা করার বিষয়ে উপস্থিত সবাইকে সচেতন করা হয়।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।