বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ৬শ’ ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি আটক, পরোয়ানায় ৪ জন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
শাহরাস্তিতে ৬শ’ ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি আটক, পরোয়ানায় ৪ জন
শাহরাস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হেলাল হোসেন (৪১) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। একই দিনে পৃথক অভিযানে বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত আরও চার আসামিকে আটক করা হয়েছে।
এছাড়া একদিন আগে সন্ধ্যায় ওয়াকওয়েতে অযাচিতভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে ১০ কিশোর এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষকের বাড়িতে অশালীন আচরণ ও ইট নিক্ষেপের ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করে পরে অভিভাবকদের জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসআই খায়রুল আলম ও এএসআই মাহফুজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাদিয়া এলাকার শুভ হোটেলের সামনে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে অভিযান চালান। এ সময় শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউপির  আয়নাতলী গ্রামের লকিত উল্লাহ পাটোয়ারী বাড়ির মিজানুর রহমানের ছেলে হেলাল হোসেনকে ৬শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, হেলালের হেফাজত থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।
একই দিন পৃথক অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত চার আসামিকেও আটক করে পুলিশ। তারা হলেন শাহরাস্তি উপজেলার রায়পুর ইউপির  সুয়াপাড়া পশ্চিম গ্রামের মৃত বিল্লাল হোসেনের ছেলে মোঃ রহমত উল্যাহ প্রকাশ লিটন (৩৮), উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম দিঘীর পাড়া সোলেমান হাজীর বাড়ির মৃত সুলতান আহম্মদের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলার আহাম্মদনগর গ্রামের চটকি বাড়ির মৃত আক্কাস আলীর ছেলে মোঃ মাহবুব আলম (৩০) এবং উপজেলার সুরসই গ্রামের দর্জি বাড়ির মোঃ রশিদের ছেলে মোঃ শাহাদাৎ। তাদের মধ্যে তিনজন জিআর এবং একজন সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি। আটক চারজনকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ কিশোরকে আটক করে পুলিশ। তারা হলো আব্দুল্লাহ আল মাহিন (১৭), অপূর্ব দাস (১৫), নুর নবী (১৭), মোঃ তামীম (১৭), নাজিবুর রহমান (১৭), শেখ রাসেল (১৭), ওমর ফারুক, তানভীর হাসান (১৭), খালেদুর রহমান (১৭) ও আরাফাত ইসলাম (১৭)। তাদের সবার বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলায়।
পুলিশের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘোরাফেরা করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কিশোররা সন্তোষজনক কোনো কারণ জানাতে পারেনি। পরে তাদের অভিভাবকরা থানায় এসে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলে আশ্বস্ত করেন। থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনায় তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ কোনো তথ্য না পাওয়ায় প্রথমবারের মতো সংশোধনের সুযোগ দিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এছাড়া ১০ আগস্ট এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ পাঁচ শিক্ষার্থী ভোলদীঘি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে ও তার বাবা-মাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং বাড়ি লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা হলো শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহের গ্রামের আবদুল্লাহ আল বাকি (১৭), পদুয়া গ্রামের আরাফাত হোসেন (১৭), কাজিরকাপ গ্রামের মাহফুজুর রহমান জিহাদ (১৭), পদুয়া গ্রামের নুরুজ্জামান সায়মন (১৭) ও রায়হান হোসেন (১৭)।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা ঘটনার কথা স্বীকার করে জানায়, পরীক্ষায় পাস করার পর আবেগ ও উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে তারা এ কাজ করেছে। পরে তারা নিজেদের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা থানায় এসে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলে আশ্বস্ত করেন এবং তারা অঙ্গীকারনামা দেয়। অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করে তার আর কোনো অভিযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, কিশোরদের বিষয়ে পুলিশ আইনগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রথমবারের মতো জড়িত কিশোরদের অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়ার আগে তাদের বিষয়ে থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস যাচাই করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান, পরোয়ানাভুক্ত আসামি আটক এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় এফআইআর নং-১১, তারিখ ১১ আগস্ট ২০২৬, জিআর নং-২৫৪ এবং পরোয়ানাভুক্তদের ক্ষেত্রে জিআর-২৬১/২৫, জিআর-৬৭/২৬, জিআর-০১/২৫ ও সিআর-৬১২/২৫ সংশ্লিষ্ট রয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital