বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

জগতপুর উবিতে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও কুফল নিয়ে আলোচনা সভা, বিতর্ক

“সঙ্গদোষ ও কৌতূহল থেকে শিক্ষার্থীদের মাদকের পথে যাওয়া রোধ করতে সচেতনতা জরুরি” চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

আবু সাঈদ, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
“সঙ্গদোষ ও কৌতূহল থেকে শিক্ষার্থীদের মাদকের পথে যাওয়া রোধ করতে সচেতনতা জরুরি” চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও অপব্যবহার থেকে দূরে রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জগতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও কুফল’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিদ্যালয়ের হলরুমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, “মাদক একটি ব্যক্তি, পরিবার তথা পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তরুণ ও শিক্ষার্থীসমাজই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। কৌতূহলবশত কিংবা সঙ্গদোষে তারা যাতে মাদকের দিকে ধাবিত না হয়, সে জন্য স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষক ও সামাজিক অঙ্গনের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি।”

Model Hospital

তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা, বই পড়া এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত রাখার পরামর্শ দেন।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতাই আইনি পদক্ষেপের চেয়ে অধিক কার্যকর’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের দুটি দল পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপন করে। বিচারকেরা শিক্ষার্থীদের যুক্তি, সচেতনতা ও বাচনভঙ্গির প্রশংসা করেন।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও সাবেক আশরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ এলাহি সুভাষের সভাপতিত্বে এবং এডহক কমিটির সদস্য জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান, পরিদর্শক আবু রেজা মেহেদী হাসান এবং কচুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হক।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আশরাফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হোসেন ইমাম মুন্সী, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছাদেক আলী, আশরাফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল মতিন, জগতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আমিনু ইসলাম, আশরাফপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুম মিজি, অভিভাবক সদস্য মনির হোসেন, বিদ্যালয়ের সাবেক সদস্য আতিকুল হক বাচ্চু, আলমগীর সরদার, ফারুক আহমেদসহ স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শপথ নেন। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তারা।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।