বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আ’ত্ম’হ’ত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম
কচুয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আ’ত্ম’হ’ত্যা

চাঁদপুরের কচুয়া পৌর এলাকার কোয়া চাঁদপুর গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে নাদিয়া আক্তার (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট  সকালে কোয়া- চাঁদপুর গ্রামের কালাগাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাদিয়া তুলপাই গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। সে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। নাদিয়া তার মায়ের সাথে কোয়া চাঁদপুর গ্রামে নানার বাড়িতে থাকতো।

নিহতের মা নুরুন্নাহার বেগম বলেন, তিনি কচুয়া টাওয়ার হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আয়া পদে চাকরি করেন। নাইট ডিউটি শেষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। অনেক ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ঘরের চালের কাঠের সাথে গলায় ওড়না পেছিয়ে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

নুরুন্নাহার বেগম আরও জানান, সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নাদিয়া তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। তবে ফলাফলের বিষয়ে তিনি মেয়েকে শাসন বা কোনো গালমন্দ করেননি।

Model Hospital

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাদিয়ার বাবা বিল্লাল হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে কোনো খোরপোষ দিতেন না। নুরুন্নাহার বেগম আয়ার কাজ করে কষ্টার্জিত আয় দিয়েই দুই মেয়েকে নিয়ে নানার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। আত্মহত্যা করার আগে নাদিয়া তার বাবার সাথে মুঠোফোনে কথা বলেছিলো বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. আজিজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।