বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের বাখরপুর প্রবাসী পরিবারের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম
চাঁদপুরের বাখরপুর প্রবাসী পরিবারের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ

চাঁদপুরে জোরপূর্বক প্রবাসী পরিবারের বাড়ির প্রবেশ পথসহ সামনের পুরো জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী এবং তার ছেলেরা প্রবাসে থাকায় বহু দেনদরবার করেও ১২ বছর ধরে তারা ওই জমি দখল মুক্ত করতে পারেনি। অবশেষে দখলকৃত জমি উদ্ধারে ফের আইনি সহায়তা চেয়ে (ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ এর ৭,৮ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেছি ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবার। ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামের বাংলাবাজার গরুর হাট সংলগ্ন এলাকায়।

সরজমিনে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এবং মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাখরপুর কবিরাজ বাড়ির মৃত ইদ্রিস কবিরাজের পুত্র মোঃ মোক্তার কবিরাজ ‌প্রতিবেশী আনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে ৩০ শতক জমি ক্রয় করেন। যা সিএস ৯৯, আরএস ১০৫ এবং বিএস ৪৭ নং খতিয়ান ভুক্ত । একই মালিকের কাছ থেকে তার প্রতিবেশী জিতু মিয়া কবিরাজ পূর্ব অংশের ৬ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। কিন্তু জিতু মিয়া কবিরাজ ওই জমির রাস্তার পাশের পুরো সামনের অংশটি দখল করে সেখানে একটি মার্কেট নির্মাণ করেন। শুধু তাই নয়, মুক্তার কবিরাজের বাড়িতে প্রবেশের কোন রাস্তাও রাখেনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুক্তার কবিরাজ‌ বলেন, আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়ে এই জমিটা কিনেছি। আমার দুই ছেলেও বিদেশ থাকতো। এই সুযোগে জিতু মিয়া কবিরাজ এক পাশের জায়গা না নিয়ে রাস্তার সামনের পুরো জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করে। তিনি ওই সময়ে হাইমচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে আমাদের উপরেই জুলুম অত্যাচার করেছে। তাদের অত্যাচারে আমি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বাড়িতে প্রবেশ করতে পারিনি।

ভুক্তভোগী মুক্তার কবিরাজ‌ আরো বলেন, জিতু মিয়া কবিরাজ মারা যাওয়ার আগে তিনি নিজের এই অন্যায়ের কথা স্বীকার করে গেছেন। শুধু তাই নয় আমাদেরকে জমিটি ফেরত দেওয়ার কথাও বলেছেন। কিন্তু মৃত্যুর পরে তার ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং ভাতিজা মো. আলাউদ্দিন ও মো. সিরাজ গংরা জমিটি এখনো দখল করে রেখেছেন। আমি মহামান্য আদালত এবং প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি। পাশাপাশি আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেবের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

Model Hospital

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে মার্কেট এলাকায় পাওয়া যায়নি। তবে জমির মূল মালিক আনোয়ারা বেগমের মেয়ে আমেনা বেগম বলেন, আমার মা বার্ধক্য জনিত অসুখে বিছানায় শয্যাশায়ী। তবে আমরা জানি যে আমার মা মুক্তার কবিরাজ‌-এর কাছে ৩০ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। অমীমাংসিত বিষয়টি সমাধান হোক এটি আমরাও চাই।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।