শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন ড্রাম ট্রাকের মরণফাঁদ

আবু সাঈদ, কচুয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ এম
কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন ড্রাম ট্রাকের মরণফাঁদ

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে বালুবাহী ড্রাম ট্রাক। অতিরিক্ত বালু বোঝাই এসব ট্রাকের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ব্যস্ত এই সড়ক। এতে পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বালু ও অতিরিক্ত ভারী যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে শত শত ড্রাম ট্রাক চলাচল করে। অনেক ট্রাকে অতিরিক্ত বালু বোঝাই করা হয়। খোলা অবস্থায় বালু পরিবহনের কারণে চলন্ত অবস্থায় তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে উড়ে সেই বালু পথচারী, মোটরসাইকেল চালক ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের চোখে-মুখে পড়ছে।

সড়কে পড়ে থাকা বালু সামান্য বৃষ্টিতে কাদায় পরিণত হয়ে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন পিছলে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি এবং কার্পেটিং উঠে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ১১ আগস্ট শাহরাস্তি উপজেলার বানিয়াচো এলাকায় কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ১৮ জন আহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Model Hospital

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ড্রাম ট্রাক চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করেন। চালকদের দক্ষতা, লাইসেন্স ও যানবাহনের কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করার সুযোগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত ভার বহনকারী ড্রাম ট্রাকের কারণে সড়কের স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত আঞ্চলিক মহাসড়কটির বিভিন্ন অংশ দ্রুত নষ্ট হলে তা সংস্কারে আবারও সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ড্রাম ট্রাক চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের গতিসীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, ওভারলোডিং বন্ধ, খোলা অবস্থায় বালু পরিবহন নিষিদ্ধ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা দরকার।

স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলে প্রাণহানি ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচল বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।