বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে চুরি করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে স্বজনদের কান্না

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
চাঁদপুরে চুরি করতে গিয়ে ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে স্বজনদের কান্না

চাঁদপুর শহরে চুরি করতে গিয়ে বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত জুম্মান (৩৪) নামে এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত জুম্মান শহরের কয়লাঘাট এলাকার হাবিব হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়দের দাবি, চুরির উদ্দেশ্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের পেছনের একটি বহুতল ভবনে প্রবেশ করেছিলেন জুম্মান। এ সময় অসাবধানতাবশত ভবনের ওপর থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

পরে বিকট শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

Model Hospital

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জুম্মানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ সময় স্বজনদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান হাসপাতালে গিয়ে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।