বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ইয়াবাসহ আটক ২, গাঁজা সেবনে কারাদণ্ড ২ জনের

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
শাহরাস্তিতে ইয়াবাসহ আটক ২, গাঁজা সেবনে কারাদণ্ড ২ জনের
শাহরাস্তিতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই দিন গাঁজা সেবনের সময় আরও দুজনকে আটক করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিআর পরোয়ানাভুক্ত আরও দুইজনকে আটক করেছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শোরসাক উত্তর পাড়ায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ঠাকুর বাজার থেকে রাগৈগামী পাকা সড়কের পাশে ছিদ্দিকুর রহমানের ভাঙারি দোকানের পূর্ব পাশে অভিযান চালিয়ে রাগৈ ইউনিয়নের নোয়া বাড়ী, পাড়া নগর এলাকার ইদ্রিস মৌলভীর ছেলে মোঃ বিপ্লব (৪৪)-কে ১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
অপরদিকে, শাহরাস্তি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ মেহের এলাকায় শাহরাস্তি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে তিন রাস্তার মোড়ে অভিযান চালিয়ে মৃত নুরুল হকের ছেলে মোঃ শফিকুর রহমান (৫০)-কে ২ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
এদিন চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের ঘড়িমন্ডল মধ্য বাড়ী এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে মোঃ মনির হোসেন (৩৫) এবং রাজারামপুর পাটোয়ারী বাড়ী এলাকার মৃত হাজী সিরাজুল হকের ছেলে মোঃ শাখাওয়াত হোসেন (৪৫)-কে WYK আবু ইউছুফের ব্রিক ফিল্ডের সামনে সড়কে গাঁজা সেবনের সময় আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত দুজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এদিকে, ১৭ আগস্ট নায়নগর হাজী বাড়ী এলাকার মোকছেদ আলীর ছেলে মোঃ রাকিব হোসেন (২২)-কে জিআর নং-১৬১/২৩-এর পরোয়ানায় আটক করা হয়। ১৮ আগস্ট নিজ মেহের এলাকার মৃত কোরবান আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ওরফে মাসুদ আলম (৪১)-কে জিআর নং-১২/২৬ (শাহরাস্তি)-এর পরোয়ানায় আটক করে পুলিশ।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক, মাদকসেবন ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। পুলিশ জানায়, ইয়াবাসহ আটক মোঃ বিপ্লবের বিরুদ্ধে শাহরাস্তি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি এফআইআর নং-২৩, জিআর নং-২৬৬, তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৬।
একই আইনের একই ধারায় মোঃ শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এফআইআর নং-২৪, জিআর নং-২৬৭ মামলা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরোয়ানাভুক্ত দুজনকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।