মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কিলার মাসুদ গ্রেপ্তার!

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৭ এম
ফরিদগঞ্জে ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কিলার মাসুদ গ্রেপ্তার!

চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭ ও ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কিলার মাসুদ গ্রেপ্তার।

অস্ত্র মামলার ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদ (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘ দিন আত্মগোপনে থাকার পর চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ টিম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাতে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম বন্দর নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় র‌্যাব-৭ এবং ফরিদগঞ্জ থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানে ফরিদগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদুল হক ও  জুমায়েত হোসেন জুয়েলসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্য ও র‌্যাবের সদস্যরা অংশ নেন।
গ্রেপ্তারকৃত কিলার মাসুদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির মৃত আব্দুল হালিম ভূঁইয়ার ছেলে।
তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি অস্ত্র মামলায় আদালত মো. মাসুদুল করিম ওরফে কিলার মাসুদকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং এলাকায় তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭-এর সহায়তায় রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ জানান, কিলার মাসুদ অস্ত্র মামলার ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একজন দুর্ধর্ষ পলাতক আসামি। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা ছিল। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তি ও র‌্যাবের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।