মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি সভাপতির পুত্র ও পুত্রবধূ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপি সভাপতির পুত্র ও পুত্রবধূ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত
শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আয়েত আলী ভূঁইয়ার মেজো পুত্র এমদাদ হোসেন রতন ভূঁইয়া ও পুত্রবধূ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় তাদের বহনকারী প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার কবলে পড়লে এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া ও তার পুত্রবধূ গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এমদাদ হোসেন ভূঁইয়ার মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করা হয়েছে। সার্জারি শেষে তাকে হাসপাতালের গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অপরদিকে, তার পুত্রবধূও গুরুতর আহত অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত দুজনের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা। আগামীকাল (শনিবার) চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং করবেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া জানান, তার পুত্র ও পুত্রবধূর অবস্থা গুরুতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আহত দুজনের দ্রুত সুস্থতার জন্য আত্মীয়-স্বজন, দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক আহত দম্পতির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, এ দুর্ঘটনার সংবাদে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। এমদাদ হোসেন ভূঁইয়া ও তার সহধর্মিণী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মহান আল্লাহ যেন তাদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সম্পূর্ণ আরোগ্য দিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। এ সংকটময় সময়ে আমি তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি এবং সকলের কাছে আহত দম্পতির জন্য বিশেষভাবে দোয়া কামনা করছি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ পাটোয়ারী রুপন। তিন দিনভর  আহত দম্পতির চিকিৎসা বিষয়ে তদারকি করেন এবং সুস্থতা কামনা করেন।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আবুল কালাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন সেলিম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলী আজগর মিয়াজী, সদস্য সচিব এহতেশামুল হক গনি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন নয়ন, সদস্য সচিব আলী আজগর মোল্লা, ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এবিএম পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ হোসেন ও ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কেউ মুঠোফোনে অনেকে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ দম্পতির দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। ঢাকাস্থ্য নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি আঃ রহিম ও সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন এমএসসি, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মকবুল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক পারভিন সুলতানা লাভলী এবং শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ আহত দম্পতির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে গভীর দুঃখ ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।