বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর বৃদ্ধের ম’রদে’হ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫০ এম
ফরিদগঞ্জে নিখোঁজের ৩০ ঘণ্টা পর বৃদ্ধের ম’রদে’হ উদ্ধার

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইউসুফ আলী মাস্টারের (৬০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম বদরপুর গ্রামের আনিস ভূঁইয়া বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত ইউসুফ আলী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ত্রী মারা গেছেন প্রায় দুই বছর আগে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছোট ছেলে বোনের বাড়িতে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ফলে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন তিনি।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ছোট ভাইদের সঙ্গে স্থানীয় হারুনের দোকানে বসে চা পান করেন ইউসুফ আলী। পরে তিনি বাড়িতে ফিরে যান। এরপর থেকে আর কেউ তাকে দেখেননি।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের আগে বাড়ির দুই শিশু ঘরের বাইরে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তার মুখে রক্তের দাগ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

Model Hospital

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ ও সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আমজাদ আলী চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

নিহতের ছোট ভাই খোকন ভূঁইয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে আমরা একসঙ্গে দোকানে বসে চা খেয়েছি। এরপর ভাই বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই থাকতেন। শুক্রবার দুপুরে জুমার আগে বাড়ির ছেলেরা রক্তমাখা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আমাদের খবর দেয়।’

নিহতের মেয়ে রেহানা খাতুন বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং হৃদরোগেও ভুগছিলেন। কয়েকবার ফোন করেও তাকে পাচ্ছিলাম না। তাই শুক্রবার সকালে বাড়িতে এসে বাবার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখি।’

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।