বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মামলা-হয়রানির সংগ্রামী অতীত পেরিয়ে মানুষের সেবায় জহির, চান টোরাগড় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আস্থা

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০১ এম
মামলা-হয়রানির সংগ্রামী অতীত পেরিয়ে মানুষের সেবায় জহির, চান টোরাগড় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আস্থা

আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে টোরাগড় দক্ষিণ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন চেয়েছেন জহির আহমেদ জহির। তিনি ওয়ার্ডবাসীর সেবা করার সুযোগ পেলে মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এক বক্তব্যে জহির আহমেদ জহির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পলাতক ছিলেন। এ সময় জেল, জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি পুলিশের হয়রানিরও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রামগঞ্জ, দাউদকান্দিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলওয়ে বোমা হামলা মামলাসহ টোরাগড় ও হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন মামলায় তার নাম আসামি হিসেবে ছিল।

জহির আহমেদ জহির আরও দাবি করেন, তৎকালীন হাজীগঞ্জ থানার ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে তার বাসার চারটি দরজা ভাঙচুর এবং দোকানের শাটার ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

Model Hospital

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। ২৬ জুলাই ২০২৪ দুপুরে টোরাগড় স্বর্ণকলি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় তার বাড়িতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশ, নারী পুলিশ, ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালায় বলেও দাবি করেন তিনি।

জহির বলেন, “আল্লাহর রহমতে সেদিন মা-বাবা ও এলাকাবাসীর দোয়া এবং ভালোবাসায় আমি বেঁচে যাই। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে সেদিন আসরের নামাজ পড়ে তওবা করি এবং পরিবারের সবার কাছ থেকে বিদায় নিই।”

নিজের অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।

আগামী হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে টোরাগড় দক্ষিণ ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নাগরিকদের সেবা করার সুযোগ প্রত্যাশা করে জহির আহমেদ জহির বলেন, “আমি মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে আছি, জুয়ার বিরুদ্ধে মাঠে আছি এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মাঠে আছি। একবারের জন্য আমাকে সেবা করার সুযোগ দিন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা লোভ দেখিয়ে নয়, কাজ করে দেখাতে চাই—ইনশাআল্লাহ।”

তিনি টোরাগড় দক্ষিণ ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সব নাগরিকের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।