মতলবে অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
মতলব দক্ষিণে অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেট কাটছেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার সামাজিক সংগঠন অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন এবং অনির্বাণ মেধা অন্বেষণ কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুমতাহিনা পৃথুলা।
অনুষ্ঠানে অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের কার্যকরি কমিটির সভাপতি মো. ইয়াকুব হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. নাসির রহমান, নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজ গর্ভিনিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ মাসুদ হাজী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অফিসার এম.এ ইউসুফ পাটোয়ারী, কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি।
মতলব দক্ষিণে অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মেধা অন্বেষণ কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা মো. ইব্রাহিম পাটোয়ারী।
পরে অনির্বাণ মেধা অন্বেষণ কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল, নারায়ণপুর পপুলার উচ্চ বিদ্যালয়, কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়ণপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কালিকাপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার মোট ১৬ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীর মাঝে নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অনির্বাণ সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রবিউল ইসলাম রবি, উপদেষ্টা মো. শরীফুল ইসলাম, মো. শাহীন প্রধান, সংগঠনের স্থানীয় কমিটির সদস্য মো. রিপন পাটোয়ারী রমিজসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।