বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুরে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম
চাঁদপুরে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ

চাঁদপুর সড়ক বিভাগের উদ্যোগে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক (লালমাই পর্যন্ত) ও পেন্নাই সড়কে তিন দিনব্যাপী উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা, চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস আলীসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে বাবুরহাট এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মোবারক মার্কেটের সামনে রাতের আঁধারে সড়কের জায়গা দখল করে ‘জ্বীন মার্কেট’ নামে একটি অবৈধ মার্কেট নির্মাণ করা হয়। মার্কেটটির কারণে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হতো। দীর্ঘদিন পর অবৈধ দখলে থাকা মার্কেটটি উচ্ছেদ করায় স্থানীয়রা সড়ক বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।

এ ছাড়া পেন্নাই সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়। তবে পেন্নাই সড়কের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে—এ মর্মে মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু পেন্নাই সড়কে কোনো নোটিশ বা মাইকিং ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কয়েকবার অনুরোধ করলেও দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো সময় দেওয়া হয়নি। এতে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

Model Hospital
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী বলেন, তিন দিনব্যাপী অভিযানের প্রথম দিনে প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদের পর উদ্ধার হওয়া জায়গার কিছু অংশ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে ব্যবহার করা হবে। বাকি অংশে গাছের চারা রোপণ করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের পাশে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখলের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি করা হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।