মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে পুলিশের মাদকবিরোধী র‌্যালিতে অংশ নিল ৮ শতাধিক মানুষ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৫ এম
শাহরাস্তিতে পুলিশের মাদকবিরোধী র‌্যালিতে অংশ নিল ৮ শতাধিক মানুষ
শাহরাস্তিতে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এক মাদকবিরোধী র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শাহরাস্তি মডেল থানার  পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মানুষ অংশ নেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মেহের উত্তর ইউপির কাকৈরতলা গোলাম কিবরিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাকৈরতলা গোলাম কিবরিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও বানিয়াচৌঁ জে.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এবং কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে। মাদক নির্মূল পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার ও সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। মাদক সম্পর্কে কোনো তথ্য পেলে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে হবে।
ওসি আরও বলেন, শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে ওসি মীর মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। এছাড়া জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি মাদকবিরোধী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।