মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে তালীমুল উম্মাহ মাদ্রাসায়  বিতরণ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
চাঁদপুরে তালীমুল উম্মাহ মাদ্রাসায়  বিতরণ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

চাঁদপুরে তালীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার উদ্যোগে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।

চাঁদপুরে  তালীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার উদ্যোগে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও শিক্ষকদের। একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি শিশুর নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের প্রথম শিক্ষা পরিবার থেকেই আসে।
তিনি বলেন, আমাদের পৃথিবী প্রযুক্তির হাত ধরে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখন বই পড়ার চেয়ে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ের প্রতি বেশি আগ্রহী। প্রযুক্তি থেকে তাদের পুরোপুরি দূরে রাখা সম্ভব নয়; বরং প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো কাজে লাগিয়ে পড়াশোনা, জ্ঞান অর্জন ও সৃজনশীলতার দিকে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মোবাইল ও প্রযুক্তিনির্ভরতা থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন নয়; বরং নৈতিকতা, আদর্শ, শিষ্টাচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। শিক্ষার্থীদের কোরআন-হাদিসের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।  প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী তার বক্তব্যে  বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে মাদ্রাসা পরিদর্শন করছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ । একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান শুধু অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের পদ্ধতি, শৃঙ্খলা, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল—সবকিছুই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষকদের নিয়মিত ও আন্তরিকভাবে পাঠদান করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তিসহ আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।
আমরা চাই, চাঁদপুর জেলার প্রতিটি মাদ্রাসা শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও পরিবেশের দিক থেকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক।  শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ ও মানসম্মত করা সম্ভব।
প্রধান মেহমান হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদরাসা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা জসিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বি.এম.এম. ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও তালীমুল উম্মাহ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মুজাম্মিল হোসাইন আনসারী।
মুফতি মো. সাইফুদ্দিন এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, আল আমিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক মাওলানা মোস্তফা, তালীমুল উম্মাহ মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব মনজুরুল আলম, তালীমুল উম্মাহ মাদ্রাসা কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিল এবং হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের লেকচারার আহমদ আলী দেওয়ান।
আলোচনা সভা শেষে বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো: রুহুল্লাহ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদীসহ অতিথিবৃন্দ।অনুদানে এছাড়াও  বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।