বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্তান কোথায় যায় কার সঙ্গে মিশে-মোবাইলে কী করে নজর রাখতে হবে : ইউএনও মনিরা খাতুন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
সন্তান কোথায় যায় কার সঙ্গে মিশে-মোবাইলে কী করে নজর রাখতে হবে : ইউএনও মনিরা খাতুন

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়ে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে শাহরাস্তি থানা প্রশাসন ও বলশীদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে টামটা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির মূল দল, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র শিক্ষক মোঃ বিল্লাল হোসেন বিএসসির সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন বলেন, একটি সুন্দর, মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিং দূর করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

Model Hospital

এ ধরনের সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সন্তানকে মাদক থেকে দূরে রাখতে হলে প্রথমেই বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সন্তান যেন নির্ভয়ে নিজের কথা বাবা-মাকে বলতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অনেক সময় অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা খারাপ বন্ধুত্বের কারণে সন্তান মাদক ও সিগারেটসহ বিভিন্ন অপরাধের পথে জড়িয়ে পড়ে। তাই সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে এবং কী করে, সেদিকে অভিভাবকদের নিয়মিত নজর রাখতে হবে।

ইউএনও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহারও বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সন্তান ভালো পড়াশোনা করছে কিংবা মাদক থেকে দূরে আছে মনে করে অভিভাবকদের নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই। মোবাইল ফোনে সে কী করছে, অনলাইন জুয়া কিংবা ক্ষতিকর গেমে আসক্ত হচ্ছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শুধু নিজের সন্তানকে ভালো রাখলেই দায়িত্ব শেষ নয়, আশপাশের শিশু-কিশোরদের প্রতিও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, মাদকের সঙ্গে চুরি, ছিনতাই ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে। মাদকের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং তারা শিক্ষাজীবন থেকে পিছিয়ে পড়ছে। তাই মাদককে শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না, এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা। প্রশাসন ও পুলিশ মাদকবিরোধী প্রচারণা ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, মাদক ও ইভটিজিংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংসহ যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধের তথ্য পুলিশকে জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সমাবেশে প্রধান বক্তা শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী বলেন, আমাদের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক এমপি  নির্বাচনের আগে থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর মহান সংসদে মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়ে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং তা বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা মাদকের নির্মূল চাই। সুন্দর ও মাদকমুক্ত শাহরাস্তি গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম পাটোয়ারী (লিটন), শাহরাস্তি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, গাউসিয়া হাশেমীয়া সেকান্দার আলী সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম, বলশীদ হাজী আকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান ভূঁইয়া, উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন, ইছাপুরা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতালেব হোসেন, হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং রাজাপুরা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা মমতাজ উদ্দিন, টামটা উত্তর ইউপি বিএনপির সভাপতি শহীদুল্লাহ মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক কিরণ মুন্সি, সাংগঠনিক সম্পাদক আয়াত আলী বেঙ্গল, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম ফারুক সাগর, আলাউদ্দিন হেলাল মুন্সি, বিএনপি নেতা ইকরামুল হাওলাদার রহিম, শিক্ষক ও বিএনপি নেতা সৈয়দ আহমেদ দুলাল, যুবদল সভাপতি মোঃ আলমসহ বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুনের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বলশীদ বাজারের  প্রধান  সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে পুলিশ সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।