বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে স্কুলে আধুনিক লাইব্রেরি, ২৬ চেয়ার দিলেন সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
শাহরাস্তিতে স্কুলে আধুনিক লাইব্রেরি, ২৬ চেয়ার দিলেন সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অত্যাধুনিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী। একই সঙ্গে শিক্ষক পরিষদের জন্য ২৬টি আধুনিক চেয়ার হস্তান্তর করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব ঘোষণা ও চেয়ার হস্তান্তর করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব মোঃ আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, মেহের ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। সে লক্ষ্যেই বিদ্যালয়ে পাঠাগার ও অন্যান্য সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে বক্তব্যে আবু ইউসুফ রুপন পাটোয়ারী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক মহোদয়ের সহযোগিতায় মেহের ডিগ্রি কলেজকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টিতে  কলেজটি সরকারি করার ঘোষণা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকতার বাকি কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের পরামর্শে টামটা উত্তর ও দক্ষিণ জনপদের মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নিজের শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উয়ারুক রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে দায়িত্ব নিয়েছি।

Model Hospital

দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংসদ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আয়েত আলী ভূঁইয়ায় সহযোগিতায়  বিদ্যালয়ের মাঠে বালু দিয়ে মাটি ভরাট, শিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভাপতি আরও বলেন, শিক্ষকরা প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের পাঠদান শেষে যেন স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২৬টি আধুনিক চেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ে একটি অত্যাধুনিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে লাইব্রেরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, লাইব্রেরিটি শুধু বই দিয়ে সাজানো হবে না।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার উপযোগী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সেখানে যুক্ত করা হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বই পড়ার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার, এআই প্রযুক্তি, গুগলসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ ও সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনির হোসেন, শিক্ষক প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন, অভিভাবক প্রতিনিধি মোঃ বিল্লাল হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মোস্তফা কামাল, সিনিয়র শিক্ষক শামীমা আক্তার মজুমদার ও সিনিয়র শিক্ষক কোহিনুর আক্তার।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।