শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ এম
কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের প্রসন্নকাপ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

রবিবার বিকেলে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা থেকে অব্যাহত পেতে প্রসন্নকাপ গ্রামের টাওয়ার মোড় এলাকায় প্রায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভুক্তভোগী আলম মিয়া বলেন, মানুষের টাকা, জমি দখল আত্মস্বাধকারী ও প্রতারক ফাতেমা,রোশনা কর্তৃক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আজকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। প্রসন্নকাপ গ্রামে গনি মাস্টার বাড়ির শাহজালাল ও মুসলিমের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি আমি ক্রয় করি । মুসলিম মিয়া ৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও শাহজালাল ৬ শতাংশ জমির টাকা নিয়ে এখনও রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।
ওই ১২ শতাংশ জমির উপর আমি দীর্ঘদিন ধরে ছেলে সন্তান নিয়ে ভোগদখলে রয়েছি। জায়গা রেজিস্ট্রি কথা বললে উল্টো বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে শাহজালালের স্ত্রী খাতেমা বেগম আমাদের পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। তার কর্তৃক ৮টি সাজানো মিথ্যা মামলায় আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে যায়।  সবগুলো মিথ্যা মামলা  প্রত্যাহার ও আমার ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিন কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এলাকাবাসীর পক্ষে আলী মিয়া, ইসমাইল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আয়েশা বেগম, রুবেল হোসেন জানান, শাহজালাল ও মুসলিম তাদের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে আলম মিয়া। ওই জমিতে বর্তমান তিনি ভোগদখলে রয়েছে। অযথাই মিথ্যা মামলা দিয়ে আলমে পরিবারকে হয়রানি করে আসছে শাহজালালের স্ত্রী  ফাতেমা বেগম, তার বোন রোশনারা ও ভাতিজা রাশেদা বেগম। তাদের এ মিথ্যা মামলার কারণে আলমে পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে যায়।
তারা আরো জানান, এ বিষয়গুলো নিয়ে এলাকায় সালিশ বিচার করে দিলেও বিচারকদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে ফাতেমা বেগম।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ ফাতেমা বেগম বলেন, আমার স্বামী ৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক ভাবে আলম মিয়া দখল করে রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমার স্বামীর জায়গার দোকানপাট ভাঙচুর করে নিয়ে যায় এবং বসত বাড়িঘরে হামলা করে। আমার ভাসুরের মেয়ে রাশেদাকে মারধর করে। এ নিয়ে আমি কচুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছি। তারাও আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার হিফজ শাখা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ ইং তারিখে চাঁদপুর আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা মাঠে হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এত বিশাল একটি আয়োজন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বিগত বছরগুলোতে আমরা সুন্দরভাবে মাহফিল পরিচালনা করে আসছি।”

Model Hospital

তিনি মাহফিলের বক্তা নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাহফিলে অমূল্য ওয়াজ ও বয়ান পেশ করার জন্য এ বছর আমন্ত্রিত অতিথিদের ইখলাস (খুলুসিয়াত) ও ইলমি গভীরতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কোনো ‘ভাইরাল’ বক্তাকে না ডেকে, সকলের পরামর্শক্রমে সুন্নাহভিত্তিক ও বিশ্বস্ত আলেম-ওলামা এবং খ্যাতিসম্পন্ন আলোচকদের দাওয়াত চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

সভায় বিশেষ অতিথির হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী এবং চাঁদপুর পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোস্তান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা নুরুল ইসলাম, এম. আই. মনিন খান, শফিকুর রহমান সেলিম, চাঁদপুর জেলা কাজী কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির শিক্ষক মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন, হাইমচর মহিলা মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক এবং চাঁদপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আনসারী, তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বন্দুকশী, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ খান, চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান জমাদার এবং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমান খান উৎপল, সাংবাদিক মাসুদ আলম, খাজা তানভীর আহমেদ, মোস্তানবাড়ী পরিবারের সদস্য ফিরোজ মোস্তান, কর্নার ডেভেলপারের কর্মকর্তা জুয়েল, আল-মানার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নেছার আহমেদ এবং হিলশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও আব্দুল মমিন পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন কোব্বাদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা ওছমান গনি, মাওলানা মো. কবির হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল করিম।

সভায় হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে মাহফিলের সার্বিক কামিয়াবি ও হেদায়েতের অসিলা কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে পরামর্শ সভা সমাপ্ত হয়।