বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ এম
কচুয়ায় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের প্রসন্নকাপ গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

রবিবার বিকেলে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা থেকে অব্যাহত পেতে প্রসন্নকাপ গ্রামের টাওয়ার মোড় এলাকায় প্রায় ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা অংশগ্রহণ করেন।

ভুক্তভোগী আলম মিয়া বলেন, মানুষের টাকা, জমি দখল আত্মস্বাধকারী ও প্রতারক ফাতেমা,রোশনা কর্তৃক মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আজকে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। প্রসন্নকাপ গ্রামে গনি মাস্টার বাড়ির শাহজালাল ও মুসলিমের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি আমি ক্রয় করি । মুসলিম মিয়া ৬ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও শাহজালাল ৬ শতাংশ জমির টাকা নিয়ে এখনও রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।
ওই ১২ শতাংশ জমির উপর আমি দীর্ঘদিন ধরে ছেলে সন্তান নিয়ে ভোগদখলে রয়েছি। জায়গা রেজিস্ট্রি কথা বললে উল্টো বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে শাহজালালের স্ত্রী খাতেমা বেগম আমাদের পরিবারকে হয়রানি করে আসছে। তার কর্তৃক ৮টি সাজানো মিথ্যা মামলায় আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে যায়।  সবগুলো মিথ্যা মামলা  প্রত্যাহার ও আমার ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি করতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিন কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এলাকাবাসীর পক্ষে আলী মিয়া, ইসমাইল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, আয়েশা বেগম, রুবেল হোসেন জানান, শাহজালাল ও মুসলিম তাদের দুই ভাইয়ের কাছ থেকে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে আলম মিয়া। ওই জমিতে বর্তমান তিনি ভোগদখলে রয়েছে। অযথাই মিথ্যা মামলা দিয়ে আলমে পরিবারকে হয়রানি করে আসছে শাহজালালের স্ত্রী  ফাতেমা বেগম, তার বোন রোশনারা ও ভাতিজা রাশেদা বেগম। তাদের এ মিথ্যা মামলার কারণে আলমে পরিবারটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে যায়।
তারা আরো জানান, এ বিষয়গুলো নিয়ে এলাকায় সালিশ বিচার করে দিলেও বিচারকদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে ফাতেমা বেগম।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ ফাতেমা বেগম বলেন, আমার স্বামী ৬ শতাংশ জমি জোরপূর্বক ভাবে আলম মিয়া দখল করে রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমার স্বামীর জায়গার দোকানপাট ভাঙচুর করে নিয়ে যায় এবং বসত বাড়িঘরে হামলা করে। আমার ভাসুরের মেয়ে রাশেদাকে মারধর করে। এ নিয়ে আমি কচুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছি। তারাও আমাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।