বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমানের যোগদান

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম
চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমানের যোগদান

চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তিনি বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলীর কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এর আগে ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান সড়ক ভবনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে সড়ক বিভাগে যোগদানের পর তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত সড়ক ভবনে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নরসিংদীর শিবপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ঢাকা কল্যাণপুর সড়ক উপ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী, শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সড়ক ভবনের প্রধান কার্যালয়ের এইচডিএম অপারেশন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সড়ক ও সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে চাঁদপুরের সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, চাঁদপুর জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চলমান প্রকল্পগুলোর যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং সড়ক ও সেতুর গুণগত মান নিশ্চিত করাই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হবে।

Model Hospital

নতুন কর্মস্থলে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরের সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়নে যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো আরও গতিশীল ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানো এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু কাজ শেষ করাই নয়, কাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর জেলার সার্বিক সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক বিভাগের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিয়মিত তদারকি, সঠিক পরিকল্পনা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব গ্রহণের পর চাঁদপুরের সড়ক বিভাগের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার পাশাপাশি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।