বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মানবতার সেবায় ৮ বছর, নবম বর্ষে ‘আলোর দিশা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
মানবতার সেবায় ৮ বছর, নবম বর্ষে ‘আলোর দিশা

মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অষ্টম বর্ষ পূর্ণ করে নবম বর্ষে পদার্পণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর দিশা’। ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি দীর্ঘ আট বছর ধরে রক্তদান, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে অর্থ, বস্ত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, অসহায় মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা, দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহযোগিতা এবং দরিদ্র পরিবারের কন্যার বিয়েতে সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনটির বর্ষবরণ ও স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরিফ এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিতরণ।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীদেরও তাঁদের মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় কেক কাটার আয়োজন এবং রাতে স্টেশনে অবস্থানরত অসহায় ও পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অষ্টম বর্ষপূর্তির আয়োজন।

সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাগর বিশ্বাস বলেন, আজ ৩১ আগস্ট। আজ থেকে আট বছর আগে এই দিনে ভালোবাসা ও মানবতার সংগঠন ‘আলোর দিশা’র পথচলা শুরু হয়েছিল। চলতে চলতে আজ আটটি বছর পূর্ণ করে নবম বর্ষে পদার্পণ করেছে আলোর দিশা।

Model Hospital

তিনি বলেন, “সংগঠন নিয়ে আমার একটিই স্বপ্ন—এই আলোর দিশার মানবতার আলো ছড়িয়ে পড়ুক সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের মাঝে। আমার মৃত্যু হলেও যেন থেমে না যায় মানবতার এই পথচলা।

সাগর বিশ্বাস আরও বলেন, “সারাদেশের বিত্তবান ও মহৎ হৃদয়ের মানুষের কাছে আমার আবেদন, কয়েকজন তরুণের স্বপ্নে গড়ে ওঠা এই ‘আলোর দিশা’কে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতায় আরও শক্তিশালী করে তুলুন। আলোর দিশা দেশের সুবিধাবঞ্চিত, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। এ পথচলা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন আপনাদের সহযোগিতা।

সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা মনে করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ‘আলোর দিশা’ আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।