শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে গিয়ে নেতার আকস্মিক মৃত্যু

এস. এম ইকবাল ফরিদগঞ্জ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে গিয়ে নেতার আকস্মিক মৃত্যু

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে আকস্মিকভাবে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. সেলিম (৫৫) নামের এক স্থানীয় বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চলাকালে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মো. সেলিম উপজেলার কালিরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী এবং ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিতে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে যান সেলিম। কর্মসূচি চলাকালে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

Model Hospital

পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি তীব্র হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী মো. সেলিমের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সেলিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ববিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদ। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।