মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জের বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করাই আমার মূল লক্ষ্য : মোতাহার পাটওয়ারী

এস. এম ইকবাল ফরিদগঞ্জ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
ফরিদগঞ্জের বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করাই আমার মূল লক্ষ্য : মোতাহার পাটওয়ারী

ফরিদগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেছেন, ফরিদগঞ্জে দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের মধ্যে ছিল এবং মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না। দীর্ঘ সময় পর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দেশের প্রশাসনিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে বিএনপি দেশকে পুনরায় শৃঙ্খলার পথে ফিরিয়ে আনবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের আদর্শ ধারণ করে বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সকালে আম্বিয়া-ইউনুছ ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী।
পরে বিকেলে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দলীয় ও জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।
দীর্ঘদিন পর ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতাকে একই মঞ্চে এবং একসঙ্গে র‌্যালিতে অংশ নিতে দেখা যায়। এতে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়।
র‌্যালির আগে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শরীফ মোহাম্মদ ইউনুস।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলালের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আব্দুল কালাম আজাদ, সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম পাবক, হারুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফর খসরু মোল্লা, নজরুল ইসলাম পাটওয়ারী, মো. জাকির পাটওয়ারী, আব্দুর রহমান, মো. মাসুদ, পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হারুনুর রশিদ, আবুল কাশেম পাটওয়ারী, শাহাবুদ্দিন বাবুল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল মতিনসহ স্থানীয় নেতারা।
আয়োজকদের দাবি, সভা ও র‌্যালিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সাত থেকে আট হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। ছাত্রদল, যুবদল, মহিলাদল, কৃষকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদেরও উপস্থিতি ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।