বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান রাশেদ পাঠান, তরুণদের মধ্যে বাড়ছে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ পিএম
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান রাশেদ পাঠান, তরুণদের মধ্যে বাড়ছে আলোচনা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তারেক মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য ও চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মো. রাশেদ পাঠান।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান রাশেদ পাঠান দীর্ঘদিন ধরে মহানগর রাজনীতির পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে আসছেন বলে জানান তার সমর্থকরা।

তাদের ভাষ্য, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশার পর থেকে রাশেদ পাঠান গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও যুবসমাজের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন। মাদকের কুফল থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলায় সহযোগিতা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দরিদ্র পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানে আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সম্প্রতি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এরপর থেকেই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Model Hospital

রাশেদ পাঠানের সমর্থকদের প্রত্যাশা, একজন তরুণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান তারা। তাদের মতে, মানুষের কথা শুনবেন, সবার জন্য সমানভাবে কাজ করবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাকে এগিয়ে নেবেন—এমন নেতৃত্বই প্রয়োজন।

ইউনিয়নের ফারুক মাস্টার, মোবারক হোসেন ও আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বে আসার যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তারা আগামী নির্বাচনে রাশেদ পাঠানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।

রাশেদ পাঠানের নিজ গ্রাম ঘনিয়া-মানুরী ছাড়াও বালিমুড়া, ডোমরা, গুয়াটোবাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয়তা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ঘনিয়া গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রাশেদ পাঠান বলেন, “আমার নেতা তারেক রহমান তরুণদের নেতৃত্বে দেখতে চান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শ্রম ও ঘামের স্বীকৃতি হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি। তবে চেয়ারম্যান হওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য নয়; মানুষের সেবা করাই আমার মূল অঙ্গীকার। জনগণের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে আমি একটি সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত ইউনিয়ন গড়তে চাই।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, যুব উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান।

রাশেদ পাঠানের ঘোষণাকে ঘিরে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে জনপ্রতিনিধি হবেন, সেই সিদ্ধান্ত দেবেন ইউনিয়নের ভোটাররা। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাশেদ পাঠান ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।