শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়ায় ঝাড়ু মিছিল

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
কচুয়ায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়ায় ঝাড়ু মিছিল

কচুয়ায় এক স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীর ঝাড়ু মিছিল।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের বরুচর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী আবু মুসার বিরুদ্ধে স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরুচর গ্রামে আবু মুসার বাড়ির সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবু মুসার স্ত্রী মাহমুদা বেগম, সন্তান, স্বজন ও স্থানীয় গ্রামবাসী অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন আবু মুসার চাচা আবুল খায়ের, হারুনুর রশিদ, কেফায়েত উল্লাহ, চাচাতো ভাই ইসহাক, তার মেয়ে মনিরা বেগম এবং স্ত্রী মাহমুদা বেগমসহ অন্যরা।

বক্তারা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে একই বাড়ির নজরুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে দুই পরিবারের সম্মতিতে আবু মুসার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মনিরা (১৮), মাকসুদা (১৪) ও মাহমুদুল হাসান (১০) নামে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর কয়েক বছর তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে চললেও পরবর্তীতে নানা বিষয়ে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেন তারা।

Model Hospital

মাহমুদা বেগম ও তার স্বজনদের অভিযোগ, আবু মুসা একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে কুমিল্লা, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব বৈঠকের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

তাদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর আবু মুসা দেশে ফিরলেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর নেন না এবং সংসারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন না। বরং বিভিন্নভাবে মাহমুদা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মাহমুদা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী আবু মুসা এবং তার ভাই আল-আমিন বিভিন্ন সময় তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করেছেন।

তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার আল-আমিন তার ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মাহমুদা ও তার সন্তানদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। তাদের ডাক-চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে আল-আমিন ঘর থেকে বের হয়ে যান বলে দাবি করেন মাহমুদা।

এ ঘটনার পর তিনি ও তার সন্তানরা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশে মাহমুদা বেগম আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কচুয়া টমা হাসপাতালে তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর তিনি অচেতন থাকা অবস্থায় তার স্বামী আবু মুসা ও তার ভাই আল-আমিন ওই সন্তানকে আবু মুসার ইতালি প্রবাসী ভাই ইয়াকুবের কাছে টাকার বিনিময়ে দিয়ে দেন বলে দাবি করেন তিনি।

মাহমুদা বেগমের ভাষ্য, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সংসারে থাকতে হলে এ বিষয়ে আর কথা না বলার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আবু মুসার মেয়ে মনিরা বেগম বলেন, বাবার পারিবারিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছে। তিনি, তার বোন মাকসুদা ও ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান বাবার স্নেহ-মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

মনিরা বলেন, তারা ভাই-বোন মা-বাবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সংসার করতে চান এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান চান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন এবং তাদের বাবা স্ত্রী-সন্তানদের দায়িত্ব নিয়ে সংসারে ফিরে আসবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা মাহমুদা বেগম ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এলাকাবাসী অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাহমুদা বেগম ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু মুসা ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার হিফজ শাখা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ ইং তারিখে চাঁদপুর আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা মাঠে হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এত বিশাল একটি আয়োজন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বিগত বছরগুলোতে আমরা সুন্দরভাবে মাহফিল পরিচালনা করে আসছি।”

Model Hospital

তিনি মাহফিলের বক্তা নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাহফিলে অমূল্য ওয়াজ ও বয়ান পেশ করার জন্য এ বছর আমন্ত্রিত অতিথিদের ইখলাস (খুলুসিয়াত) ও ইলমি গভীরতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কোনো ‘ভাইরাল’ বক্তাকে না ডেকে, সকলের পরামর্শক্রমে সুন্নাহভিত্তিক ও বিশ্বস্ত আলেম-ওলামা এবং খ্যাতিসম্পন্ন আলোচকদের দাওয়াত চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

সভায় বিশেষ অতিথির হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী এবং চাঁদপুর পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোস্তান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা নুরুল ইসলাম, এম. আই. মনিন খান, শফিকুর রহমান সেলিম, চাঁদপুর জেলা কাজী কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির শিক্ষক মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন, হাইমচর মহিলা মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক এবং চাঁদপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আনসারী, তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বন্দুকশী, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ খান, চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান জমাদার এবং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমান খান উৎপল, সাংবাদিক মাসুদ আলম, খাজা তানভীর আহমেদ, মোস্তানবাড়ী পরিবারের সদস্য ফিরোজ মোস্তান, কর্নার ডেভেলপারের কর্মকর্তা জুয়েল, আল-মানার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নেছার আহমেদ এবং হিলশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও আব্দুল মমিন পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন কোব্বাদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা ওছমান গনি, মাওলানা মো. কবির হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল করিম।

সভায় হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে মাহফিলের সার্বিক কামিয়াবি ও হেদায়েতের অসিলা কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে পরামর্শ সভা সমাপ্ত হয়।