বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে ৪৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩২ শিক্ষার্থী পেল ফুটবল খেলার বুট

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১২ পিএম
মতলব দক্ষিণে ৪৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩২ শিক্ষার্থী পেল ফুটবল খেলার বুট

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় প্রাইমিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্ট উপলক্ষে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. ইশমামসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ ও প্রাইমিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্ট উপলক্ষে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রাইমিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্ট উপলক্ষে উপজেলার ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৩২ জোড়া ফুটবল খেলার বুটজুতা বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম. ইশমাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বাদল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য ও উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মুজাহিদুল ইসলাম কিরন।
এসময় মতলব দক্ষিণ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এমদাদ হোসেন খান, সদস্য মো. ফয়সাল খন্দকারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণ, আত্মবিশ্বাস এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ করা জরুরি। এতে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীরাও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩২ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৮৩২ জোড়া ফুটবল খেলার বুট বিতরণ। বুট পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়।
ক্রীড়াবিদরা মনে করেন, প্রয়োজনীয় ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহের ফলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ আরও বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পুরস্কার গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া সামগ্রীর সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে মতলব দক্ষিণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

ছুটি নেননি, কর্মস্থলেও অনুপস্থিত

কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম
কচুয়ায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি ‘যা ইচ্ছা লিখেন, কী করতে পারেন দেখি’

কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ইনসেটে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের ফাইল ফটো।

চাঁদপুরের কচুয়া সদর ৭নং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে । অন্যদিকে, বাকি কর্মদিবসগুলোতে ৭নং সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনকে দিয়ে নিজের চেম্বারের কার্যক্রম পরিচালনা করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাঁর উপস্থিতি যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে মেলেনি তার স্বাক্ষর। অফিস সহায়ক জসিম বলেন স্যার ছুটিতে আছেন, তাঁর ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি অফিস সহায়ক।

তবে তার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না থাকা এবং বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

Model Hospital

সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনেক সময় পান না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরে অন্যত্র যেতে হলে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিন জানান, সেলিম আল মামুন স্যার ছুটিতে রয়েছেন এবং অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অফিস সহায়ক জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে মোঃ সেলিম আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তার কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা মোঃ সেলিম আল মামুনের কাছে অনুপস্থিত ও ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা  প্রকাশ করেন। “আপনাদের যা ইচ্ছা তাই লিখেন দেখি আমার কি করতে পারেন” এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে চলে যান।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সোহেল রানা বলেন, উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা সেলিম আল মামুন কোন ছুটি নেননি। সদর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৩ দিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।