মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুরিপানার জটলা এখন আশীর্বাদ, চাঁদপুরে ভাসমান ধাপে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
কচুরিপানার জটলা এখন আশীর্বাদ, চাঁদপুরে ভাসমান ধাপে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

একসময় ডাকাতিয়া নদী ও আশপাশের জলাশয়ে কচুরিপানার জটলা ছিল স্থানীয় নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার অন্যতম দুর্ভোগ। নৌ-চলাচলে বাধা, জলাবদ্ধতা আর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছিল মানুষ। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত কচুরিপানাই এখন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা।

কচুরিপানা পচিয়ে তৈরি করা ভাসমান বেড বা ‘ধাপ’-এ বিষমুক্ত সবজি ও চারা উৎপাদন করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন শত শত কৃষক। জলাবদ্ধ ও অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এই ভাসমান কৃষি।

উপজেলার শোভান এলাকার জলাবদ্ধ প্রাঙ্গণে কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে চলছে এ কৃষি কার্যক্রম। বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে তৈরি ভাসমান বেডজুড়ে এখন লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, শসা, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির সবুজ সমারোহ। এখানকার উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সরবরাহ করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলাতেও।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শোভান এলাকায় প্রথম ভাসমান বেডে সবজি চাষ শুরু করে সফলতা পান উদ্যোমী কৃষক শহীদ তালুকদার। তাঁর সাফল্য দেখে উৎসাহিত হন অন্য কৃষকরাও। বর্তমানে শুধু শোভান গ্রামেই প্রায় ১১০ জন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ভাসমান বেডে সবজি ও চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

Model Hospital

উদ্যোক্তা কৃষক শহীদ তালুকদার জানান, চলতি মৌসুমে তিনি একাই ৬০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন। বেড তৈরি, শ্রমিক ও আনুষঙ্গিক খরচসহ তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। মৌসুম শেষে সবজি ও চারা বিক্রি করে অন্তত ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “যে কচুরিপানা একসময় পচে দুর্গন্ধ ছড়াত, সেটিই সংগ্রহ করে সারি সারি বেড তৈরি করে এখন আমরা বাড়তি আয় করছি। পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও মিটছে। মৌসুম শেষে বেড পচে গেলে তা জমিতে উন্নতমানের জৈবসার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।”

তবে সম্ভাবনাময় এ কৃষিতে যেমন সাফল্যের গল্প রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষোভও। স্থানীয় কৃষক মো. রাব্বি ও মো. রাজিব অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে তাঁরা স্বপ্রণোদিত হয়ে এ প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করলেও কৃষি বিভাগের কাঙ্ক্ষিত সহায়তা বা প্রণোদনা পাচ্ছেন না।

তাঁদের অভিযোগ, “কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের পছন্দের গুটিকয়েক ব্যক্তিকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। ফলে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরিদগঞ্জের নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “ফরিদগঞ্জে উৎপাদিত চারা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও জনপ্রিয়। আমরা সরকারি সহায়তার পরিধি বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখছি। প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হলে আরও বেশি কৃষককে সরকারি সুবিধার আওতায় আনা যাবে।”

কৃষকদের মতে, অনাবাদি জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে এই ভাসমান কৃষি। তাঁদের দাবি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি উপকরণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ফরিদগঞ্জের ভাসমান সবজি চাষ দেশের কৃষিতে একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে।

বিমানবন্দরে সংবর্ধিত রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
বিমানবন্দরে সংবর্ধিত রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নং রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী দেশে ফেরায় তাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবর্ধনা দিয়েছেন দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। রাজারগাঁও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবীণ-নবীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এতে অংশ নেন।

আব্দুল করিম বেপারী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি রাজারগাঁও ইউনিয়নবাসীর সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। সমান ভাবে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি-চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক মমিন ভাইয়ের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করব। রাজারগাঁও ইউনিয়নকে অন্যায়, অনিয়ম,অপরাধ, দুর্নীতি, লুটপাট মুক্ত – একটি সুন্দর ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি।”

Model Hospital

এদিকে সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলেন, তারা আব্দুল করিম বেপারীকে রাজারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের প্রবীণ ও নবীন নেতাকর্মী, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে আব্দুল করিম বেপারী বলেন, “আমার নেতাকর্মী, সমর্থক ও ইউনিয়নবাসীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছেন, তা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।”