শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কচুরিপানার জটলা এখন আশীর্বাদ, চাঁদপুরে ভাসমান ধাপে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
কচুরিপানার জটলা এখন আশীর্বাদ, চাঁদপুরে ভাসমান ধাপে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

একসময় ডাকাতিয়া নদী ও আশপাশের জলাশয়ে কচুরিপানার জটলা ছিল স্থানীয় নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার অন্যতম দুর্ভোগ। নৌ-চলাচলে বাধা, জলাবদ্ধতা আর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছিল মানুষ। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত কচুরিপানাই এখন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হয়ে উঠেছে গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা।

কচুরিপানা পচিয়ে তৈরি করা ভাসমান বেড বা ‘ধাপ’-এ বিষমুক্ত সবজি ও চারা উৎপাদন করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন শত শত কৃষক। জলাবদ্ধ ও অনাবাদি জমিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এই ভাসমান কৃষি।

উপজেলার শোভান এলাকার জলাবদ্ধ প্রাঙ্গণে কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে চলছে এ কৃষি কার্যক্রম। বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে তৈরি ভাসমান বেডজুড়ে এখন লাউ, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, শসা, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির সবুজ সমারোহ। এখানকার উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সরবরাহ করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলাতেও।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শোভান এলাকায় প্রথম ভাসমান বেডে সবজি চাষ শুরু করে সফলতা পান উদ্যোমী কৃষক শহীদ তালুকদার। তাঁর সাফল্য দেখে উৎসাহিত হন অন্য কৃষকরাও। বর্তমানে শুধু শোভান গ্রামেই প্রায় ১১০ জন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে ভাসমান বেডে সবজি ও চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

Model Hospital

উদ্যোক্তা কৃষক শহীদ তালুকদার জানান, চলতি মৌসুমে তিনি একাই ৬০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন। বেড তৈরি, শ্রমিক ও আনুষঙ্গিক খরচসহ তাঁর প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। মৌসুম শেষে সবজি ও চারা বিক্রি করে অন্তত ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, “যে কচুরিপানা একসময় পচে দুর্গন্ধ ছড়াত, সেটিই সংগ্রহ করে সারি সারি বেড তৈরি করে এখন আমরা বাড়তি আয় করছি। পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টির চাহিদাও মিটছে। মৌসুম শেষে বেড পচে গেলে তা জমিতে উন্নতমানের জৈবসার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।”

তবে সম্ভাবনাময় এ কৃষিতে যেমন সাফল্যের গল্প রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষোভও। স্থানীয় কৃষক মো. রাব্বি ও মো. রাজিব অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে তাঁরা স্বপ্রণোদিত হয়ে এ প্রযুক্তিতে চাষাবাদ করলেও কৃষি বিভাগের কাঙ্ক্ষিত সহায়তা বা প্রণোদনা পাচ্ছেন না।

তাঁদের অভিযোগ, “কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের পছন্দের গুটিকয়েক ব্যক্তিকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন। ফলে প্রকৃত প্রান্তিক কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরিদগঞ্জের নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “ফরিদগঞ্জে উৎপাদিত চারা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও জনপ্রিয়। আমরা সরকারি সহায়তার পরিধি বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখছি। প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হলে আরও বেশি কৃষককে সরকারি সুবিধার আওতায় আনা যাবে।”

কৃষকদের মতে, অনাবাদি জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে এই ভাসমান কৃষি। তাঁদের দাবি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি উপকরণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ফরিদগঞ্জের ভাসমান সবজি চাষ দেশের কৃষিতে একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।