মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে জিআরএস অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম
চাঁদপুরে জিআরএস অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

চাঁদপুরে জিআরএস অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মিজ শাহানারা বেগম। পাশে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় চাঁদপুরে জিআরএস (অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা) ব্যবস্থাপনা বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক প্রধান করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মিজ শাহানারা বেগম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাজমুন নাহার, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম জামিউল হিকমা, চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রী খিসা, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহা. মিজানুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁদপুরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

Model Hospital

প্রশিক্ষণে সরকারি দপ্তরে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ, অভিযোগের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, দ্রুত নিষ্পত্তি, অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান প্রশিক্ষক মিজ শাহানারা বেগম সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও নাগরিকবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করতে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি জিআরএস ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রশিক্ষণে সরকারি দপ্তরগুলোর সেবা কার্যক্রমে নাগরিকদের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন ও জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রশিক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ২০টি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সরকারি সেবা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধবভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বাস্তবধর্মী ধারণা লাভ করেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।