শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ডায়ালাইসিসে চলছে ২৬ বছরের নাঈমের জীবন, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৮০ লাখ টাকা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
শাহরাস্তিতে ডায়ালাইসিসে চলছে ২৬ বছরের নাঈমের জীবন, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৮০ লাখ টাকা
যে বয়সে জীবনের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কথা, সেই ২৬ বছর বয়সেই কঠিন কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আবু নাঈম। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার স্বপ্ন নিয়ে ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত হন।
বর্তমানে দেশে ফিরে সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাকে । ওষুধ, ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসায় প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে তাঁর পরিবার। নাঈমের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সরকার, প্রবাসী ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।
আবু নাঈম শাহরাস্তি উপজেলার মেহার দক্ষিণ ইউপির ভোলদিঘী মাদ্রাসাবাড়ির বাসিন্দা। তিনি মাওলানা নূরুল ইসলাম ও নাছিমা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট নাঈম ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে না পেরে ২০২৩ সালের জুনে ঋণ করে সৌদি আরবে যান নাঈম। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সেখানে তাঁর কিডনি রোগ শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে চার দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
গত আট মাসে চিকিৎসায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ছয় শতাংশ জমিও বিক্রি করেছেন তাঁর বাবা মাওলানা নূরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবসর নিলেও অবসর ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা এখনো পাননি বলে পরিবার জানিয়েছে।
মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ হচ্ছে। এতদিন ধারদেনা করে চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর একা এই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। নাঈমের চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
নাঈমের মা নাছিমা বেগম বলেন, ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আমরা মানুষের সহযোগিতা চাই। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ালে চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ভবিষ্যতে নাঈমের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। শারীরিক জটিলতার কারণে পরিবারের কোনো সদস্য কিডনি দান করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।দেশে ফেরার পর মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আশরাফুল আলমের পরামর্শ নিয়েছেন নাঈম। বর্তমানে নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নিজামউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আক্তারুজ্জামান বলেন, নাঈমের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাঁর চিকিৎসায় তিনি ও তাঁর পরিবার সহায়তা করেছেন। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
মেহার দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন নাঈমের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, নাঈম তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সে বিদেশে গিয়েছিল। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরিবারটির ওপর চিকিৎসার বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার হিফজ শাখা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ ইং তারিখে চাঁদপুর আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা মাঠে হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এত বিশাল একটি আয়োজন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বিগত বছরগুলোতে আমরা সুন্দরভাবে মাহফিল পরিচালনা করে আসছি।”

Model Hospital

তিনি মাহফিলের বক্তা নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাহফিলে অমূল্য ওয়াজ ও বয়ান পেশ করার জন্য এ বছর আমন্ত্রিত অতিথিদের ইখলাস (খুলুসিয়াত) ও ইলমি গভীরতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কোনো ‘ভাইরাল’ বক্তাকে না ডেকে, সকলের পরামর্শক্রমে সুন্নাহভিত্তিক ও বিশ্বস্ত আলেম-ওলামা এবং খ্যাতিসম্পন্ন আলোচকদের দাওয়াত চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

সভায় বিশেষ অতিথির হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী এবং চাঁদপুর পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোস্তান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা নুরুল ইসলাম, এম. আই. মনিন খান, শফিকুর রহমান সেলিম, চাঁদপুর জেলা কাজী কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির শিক্ষক মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন, হাইমচর মহিলা মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক এবং চাঁদপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আনসারী, তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বন্দুকশী, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ খান, চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান জমাদার এবং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমান খান উৎপল, সাংবাদিক মাসুদ আলম, খাজা তানভীর আহমেদ, মোস্তানবাড়ী পরিবারের সদস্য ফিরোজ মোস্তান, কর্নার ডেভেলপারের কর্মকর্তা জুয়েল, আল-মানার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নেছার আহমেদ এবং হিলশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও আব্দুল মমিন পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন কোব্বাদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা ওছমান গনি, মাওলানা মো. কবির হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল করিম।

সভায় হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে মাহফিলের সার্বিক কামিয়াবি ও হেদায়েতের অসিলা কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে পরামর্শ সভা সমাপ্ত হয়।