বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ডায়ালাইসিসে চলছে ২৬ বছরের নাঈমের জীবন, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৮০ লাখ টাকা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
শাহরাস্তিতে ডায়ালাইসিসে চলছে ২৬ বছরের নাঈমের জীবন, কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৮০ লাখ টাকা
যে বয়সে জীবনের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কথা, সেই ২৬ বছর বয়সেই কঠিন কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আবু নাঈম। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার স্বপ্ন নিয়ে ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে গুরুতর কিডনি রোগে আক্রান্ত হন।
বর্তমানে দেশে ফিরে সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাকে । ওষুধ, ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসায় প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে তাঁর পরিবার। নাঈমের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সরকার, প্রবাসী ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।
আবু নাঈম শাহরাস্তি উপজেলার মেহার দক্ষিণ ইউপির ভোলদিঘী মাদ্রাসাবাড়ির বাসিন্দা। তিনি মাওলানা নূরুল ইসলাম ও নাছিমা বেগম দম্পতির ছোট ছেলে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট নাঈম ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে না পেরে ২০২৩ সালের জুনে ঋণ করে সৌদি আরবে যান নাঈম। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সেখানে তাঁর কিডনি রোগ শনাক্ত হয়। অবস্থার অবনতি হলে চার দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
গত আট মাসে চিকিৎসায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ছয় শতাংশ জমিও বিক্রি করেছেন তাঁর বাবা মাওলানা নূরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবসর নিলেও অবসর ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা এখনো পাননি বলে পরিবার জানিয়েছে।
মাওলানা নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ হচ্ছে। এতদিন ধারদেনা করে চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর একা এই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। নাঈমের চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
নাঈমের মা নাছিমা বেগম বলেন, ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আমরা মানুষের সহযোগিতা চাই। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ালে চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে।চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ভবিষ্যতে নাঈমের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। শারীরিক জটিলতার কারণে পরিবারের কোনো সদস্য কিডনি দান করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।দেশে ফেরার পর মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আশরাফুল আলমের পরামর্শ নিয়েছেন নাঈম। বর্তমানে নেফ্রোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নিজামউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আক্তারুজ্জামান বলেন, নাঈমের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাঁর চিকিৎসায় তিনি ও তাঁর পরিবার সহায়তা করেছেন। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
মেহার দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন নাঈমের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন বলেন, নাঈম তাঁর প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে সে বিদেশে গিয়েছিল। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরিবারটির ওপর চিকিৎসার বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital