মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত, স্কুল ক্যাম্পাসেই যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ পিএম
হাজীগঞ্জে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত, স্কুল ক্যাম্পাসেই যুবকের কারাদণ্ড

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করার অভিযোগে আলাউদ্দিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলাউদ্দিন উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের রাধাসার গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিলেন আলাউদ্দিন। এতে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবার বিব্রত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে।

পরে বিষয়টি শিক্ষার্থীর পরিবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিলন, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য ও প্রধান শিক্ষককে জানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় আলাউদ্দিনকে আটক করা হয়। এরপর বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়।

Model Hospital

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়,দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় আলাউদ্দিনকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন, “মেয়েটির মা বিষয়টি আমাকে জানানোর পর আমরা প্রশাসনকে অবহিত করি। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্য হোসেন মোল্লা লিটন বলেন, “আমরা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করার ব্যবস্থা করি।”

হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন বলেন, “দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৫০৯ ধারায় অভিযুক্তকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৭ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।”

সাজা ঘোষণার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানী আকন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা,নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।