শাহরাস্তিতে মোবাইলে ব্যস্ত চিকিৎসক, অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে হাজেরা বেগম (৪২) নামে ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

নিহত হাজেরা বেগম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা বাজার ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শেখের বাড়ির বাসিন্দা ও আক্তার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বজনদের দাবি, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাজেরার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কাকে রোগী দেখার অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসক রোগীর কাছে না এসে নিজ কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন।

তাদের অভিযোগ, পরে চিকিৎসক রোগীকে বেড থেকে কাঁধে করে তার কক্ষে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। রোগীর স্বামী একা তা সম্ভব নয় জানালে তিনি অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন। এর কিছুক্ষণ পরই রাত সাড়ে ১১টায় মহিলা ওয়ার্ডেই হাজেরার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, “ডাক্তারকে বারবার অনুরোধ করেছি। তিনি রোগীকে দেখে চিকিৎসা দিলে আমার স্ত্রী বেঁচে যেত।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য নিতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি কনসালট্যান্ট ডা. জয়ন্ত মালাকার। তিনি নিজেকে ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, চিকিৎসকের অবহেলার সব দায় তিনি নেবেন এবং তার পক্ষে তিনিই বক্তব্য দেবেন।
ডা. জয়ন্ত বলেন, “ওই রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল। লিভারের জটিল রোগীর চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্ভব নয়।”
তবে রোগীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসক সময়মতো দেখেছেন কি না এবং স্বজনদের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল বলেন, “কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





