বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জন

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৩ পিএম
কচুয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জন

তুলপাই দারশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। ইনসেটে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজী।

চাঁদপুরের কচুয়ায় তুলপাই দারাশাহী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং ওই শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

​সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দারাশাহী তুলপাই বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান নেন। এ সময় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত বিচার দাবি করে তিন দফা দাবি পেশ করেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তদন্ত চলাকালীন বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক নাছির আহমেদ গাজীকে বিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে।

​মানববন্ধনে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহাত পাটোয়ারি ও মেহেদি হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা সব ধরনের যৌন সহিংসতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। এর আগেও আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে কয়েকবার অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে ক্লাস বর্জন করেছি।

​সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী হালিমা আক্তার ও রাখি রাণী অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নাছির আহমেদ গাজী আমাদের সাথে নানাভাবে খারাপ আচরণ করেন এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। আমরা তার পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

Model Hospital

​বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য জুয়েল পাটোয়ারি জানান, বিগত দিনগুলোতেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এর আগেও কয়েকবার শালিসের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করা হলেও তিনি সংশোধন হননি।

​ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর চাচা মো. জাকির হোসেন বলেন, আমার ভাতিজির সাথে ওই শিক্ষক খারাপ আচরণ করার পর আমি তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন আমার কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না।

​​সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. নাছির আহমেদ গাজী মুঠোফোনে দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিল। আজ হঠাৎ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে। আমি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।

​এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলী আশ্রাফ খান জানান, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও ক্লাস বর্জনের খবর পেয়ে আমি দ্রুত বিদ্যালয়ে যাই। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহরাস্তিতে ২০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
শাহরাস্তিতে ২০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাহাঙ্গীর আলম (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) শাহরাস্তি পৌরসভার শ্রীপুর এলাকার ঠাকুর বাজার থেকে মাজার সড়কের বালুর মাঠসংলগ্ন পাকা সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহরাস্তি মডেল থানা-পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ নাথসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর হেফাজত থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম শাহরাস্তি উপজেলার টামটা এলাকার শিংয়ের বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুল বাছেত এবং মায়ের নাম ফিরোজা বেগম।

Model Hospital

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির এফআইআর নম্বর ১৫, তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।