বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সৌর ভিত্তিক সিস্টেম স্থাপন বিষয়ক মতবিনিময় সভা

সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সরকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছে : মেহেদী হাসান

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সরকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছে : মেহেদী হাসান

চাঁদপুরে সৌর ভিত্তিক সিস্টেম স্থাপন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান ভূঞা।

চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের আয়োজনে সৌর ভিত্তিক সিস্টেম স্থাপনের নিমিত্ত চাঁদপুর জেলা’র সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তি বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকাল ১১টায় চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মেহেদী হাসান ভূঞা।
তিনি বলেন, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমান বাজারদর এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক প্রাপ্ত বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ (আট) টাকা ধরা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০% মুনাফা ও ১১.২৫% প্রিমিয়াম বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০.৫০ (দশ টাকা পঞ্চাশ পয়সা) হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্মানিত কোনো গ্রাহক নির্ধারিত উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম ব্যয়ে এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে সক্ষম হলে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরো বলেন, রুপটপ সোলার প্যানেল মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বাকি বিদ্যুৎ সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন৷ আপনারা হাইব্রিড সৌর বসালে ব্যাকআপের জন্য ব্যাটারি থাকবে। আপনারা ব্যবহার করার পর যে বিদ্যুৎ অবশিষ্ট থাকবে, তা সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবে৷ এটা আমাদের সাথে চুক্তি হবে৷ বিদ্যুৎ আলো দিয়ে তৈরি হয়৷ তাপ দিয়ে হয় না। তাই ব্যক্তি অর্থায়নে সোলার প্যানেল বসালে, সরকারি স্থাপনা গুলো সরকার সোলারের আওতায় নিতেছে।  সরকার চাচ্ছে, সবাই এর আওতায় আসুক। এজন্য সরকার প্রণোধনা ঘোষনা করেছে। সৌর বিদ্যুৎ বসাতে ১কিলোওয়াট লোডের জন্য ৬০স্কয়ার ফিট স্থান লাগবে৷ সৌর বিদ্যুৎ বসাতে কারিগরি সহযোগিতা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড দিবে। বিদ্যুৎ এর কোন অভিযোগ পেলে জনবল সংকটের জন্য দ্রুত লোক পাঠানো যায় না৷ সরকার ২০৩০সালের মধ্যে সৌর মাধ্যমে ১০হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর থেকে উৎপাদন করবে।
তিনি আরো বলেন, সৌর বিদ্যুৎ এর মাধ্যমে নিজের জেলায় কাজের বাড়তি সুবিধা পাবেন৷ আপনার ব্যবসা যে জেলায় নিবন্ধিত, সেই জেলায় আবেদন করলে সর্ব্বোচ্চ ৪০নম্বর পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনারা ৩১ডিসেম্বর ২০২৮সাল পর্যন্ত সোলার ব্যবসায় তালিকাভুক্ত হতে পারবেন এবং
সোলার ব্যবসায় তালিকাভুক্ত হতে চাঁদপুর নতুন বাজারে অবস্থিত চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
তিনি বলেন, সরকার ব্যাটারি সহ ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে প্রনোধনা প্যাকেজ ঘোষনা করছে৷ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই।
 আপনারা সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারেন। সবাই সৌর বিদ্যুৎ ব্যাপারে এগিয়ে আসবেন৷ এতে আমাদের বিদ্যুত ঘাটতি কমবে। আমরা সরকারের এ উদ্যোগকে প্রচার করবো। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। চাঁদপুর বিদুত  বিভাগের সাথে যোগাযোগ করুন। এ সংক্রান্ত সকল তথ্য ও সহযোগিতা পাবেন।
তিনি আরো বলেন, প্রি-পেইড মিটারের নামে চার্জ বেশি কাটা হয়, তা প্রত্যাহারের জন্য আপনার মাধ্যমে প্রস্তাব করছি ৷ প্রি-পেইড মিটার সরিয়ে পূর্বের মিটার স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে, কিংবা মিটারের চার্জের নামে অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া বন্ধ করতে হবে৷ প্রতিবার মিটার রিচার্জ করলে চার্জ কেটে নেয়৷ এটি সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবি। তাই অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার করুন।
এ ছাড়াও সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ও অংশগ্রহন করেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী,  সম্পাদক এম এ লতিফ, চাঁদপুর চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি ১এর জিএম গোবিন্দ আগরওয়ালা, চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২এর জিএম মো: আতিকুজ্জামান চৌধুরী, চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুত সমিতি-২এর এজিএম (ওএন্ডএম) মো: মজিবর রহমান, চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: হুমায়ুন কবির, মো: ইসমাঈল হুসাইন, আলম ইলেকট্রিক এর ম্যানেজার মো: ফারুক, মেসার্স ভূইয়া এন্টার প্রাইজ এর স্বত্ত্বাধিকারী মো: আবু সুফিয়ান, মজুমদার এন্টার প্রাইজ এর মো: রাসেল মজুমদার, আলম ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্ত্বাধিকারী মো: শাহআলম খান, চাঁদপুর রোস্তরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুদ আখন্দ, সারওয়ার আদনান, ফারুক আহমেদ, ব্যবসায়ীবৃন্দ ও সুধীজন। সবশেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে চাঁদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকীেশলী মো:মেহেদী হাসান ভূইয়া ছাদভিত্তিক  সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনে মিডিয়ার মাধ্যমে  চাঁদপুরবাসীকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।