বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে দুই সন্তানের জননীর আ’ত্মহ’ত্যা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে দুই সন্তানের জননীর আ’ত্মহ’ত্যা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের লাউতলি গ্রামে দুই সন্তানের জননী লাকি আক্তার (২৮)এর আত্মহত্যা নাকি রহস্যজনক মৃত্যু। এ নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয় নানান রকম কথোপকথন।
গৃহবধূর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লাউতলি গ্রামে মিজি বাড়ি থেকে লাকি আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে প্রেরণ করেন।
নিহত লিকি আক্তার লাউতলি মিজি বাড়ির বাক প্রতিবন্ধী (বোবা) নুরুন্নবীরর স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী। তারা বাবার বাড়ি ঘোড়াশাল কোজ বাড়ির সে শফিকের মেয়ে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ আলম বলেন, গত প্রায় ১০ বছর পূর্বে লাকী আক্তার ও বোবা মো. নুরুন্নবীর দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দু’টি সন্তান রয়েছে। স্বামী মো. নুরুন্নবী নিজে একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সংসারে নানান কলহ দেখা দেয়। পারিবারিক বিরোধের জেরে লাকী আক্তার বিভিন্ন সময়ে স্বামী ও শ্বশুর-পরিবারের লোকজনের মারধনের শিকার হতেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ঝাটি হয়।  আজ দুপুর ১২ টা নাগাদ পরিবারের লোকজন সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এসময় ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়াবস্থায় তার শিশু মেয়ে তাকে ঝুলতে দেখে ডাকচিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়।
এরপর থেকে লাকি আক্তারের শ্বশুর ইউসুফ ও শাশুড়ি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এতেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। স্থানীয় লোকজন বলেছেন, হয়তো পরিবারের লোকজন মারধরের সময় সে মারা গিয়েছে। এরপর তারা আত্মহত্যার নাটক তৈরি করছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, লাকী আক্তার নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তি আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।