বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

কচুয়ায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার হামলা অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

কচুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের আইনগিরী বাতাবাড়িয়া গ্রামের ফকির বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল ওই বাড়ির দিদার হোসেনের বাড়িতে মাদকের অভিযান দিতে প্রবেশ করে । পরে পাশের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় মাদক কারবারিরা পুলিশের এএসআই শহিদুল ইসলামের  ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলার মুখে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিছু হটে বলে জানান স্থানীয়রা। পরে এএসআই শহিদুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়।
হামলার শিকার এএসআই শহিদুলও তার ওপর হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করতে গেলে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত আমার মাথায় টস লাইট দিয়ে আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থলে থেকে পালিয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল ফোন ফেলে যায় মাদক কারবারিরা। তবে ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও ওই মোবাইল ফোন উদ্ধার করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনার পরও যদি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এলাকায় মাদক কারবার আরও উৎসাহিত হতে পারে।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ আরো জানান, আইনগিরী ও বাতাবাড়িয়া গ্রামে মাদক বিরোধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মাদক বিরোধী সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা ও সাংবাদিক ও এলাকাবাসীসহ সকলের উপস্থিতিতে মাদকের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর নিয়ে  চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এরশাদ হোসেন,সাইদুল্লাহ, আনোয়ার হোসেন, তার ছেলে নাবিল হোসেন,মা ওজুফা খাতুন, মাসুদ ও আলমগীর হোসেনসহ আরো অনেকের নাম উল্লেখ করা হয় । পরবর্তীতে তাদের নাম লিস্ট করে কচুয়া থানা জমা দেওয়া হয়েছে।
দুঃখের বিষয় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কচুয়া থানার পুলিশ। এমনকি তারা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন, তাদের ছত্রছায়া পার্শ্ববর্তী উপজেলা বরুড়া থেকেও ফেনসিডিল ইয়াবা ও গাজা এনে এই গ্রামে ক্রয়বিক্রয় করছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আজিজুল ইসলাম বলেন,  তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।