মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ বাজারে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি, অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
হাজীগঞ্জ বাজারে সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি, অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজের মাঝখানে থাকা ১৪টি বিদ্যুতের খুঁটি দ্রুত অপসারণ বা স্থানান্তরের দাবিতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর প্রধান কার্যালয়ে জিএম গোবিন্দ আগরওয়ালার হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেওয়া হয়। জনস্বার্থে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেন গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজকর্মী সাইফুল ইসলাম সিফাত।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাজীগঞ্জ বাজারে সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলছে। ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক বিভাগের জায়গা উন্মুক্ত হওয়ায় সড়কের পরিসরও বেড়েছে। তবে সড়ক প্রশস্ত হওয়ার পরও মাঝখানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর প্রায় ১৪টি বিদ্যুতের খুঁটি রয়ে গেছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এসব খুঁটি ভবিষ্যতে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। পাশাপাশি বাজারের স্বাভাবিক চলাচল ও সৌন্দর্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলমান উন্নয়নকাজের সময় খুঁটিগুলো স্থানান্তর করা হলে ভবিষ্যতে সড়ক কেটে পুনরায় কাজ করার প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারি অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে।

Model Hospital

স্মারকলিপিতে ১৫ দিনের মধ্যে খুঁটিগুলো চিহ্নিত করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ জনগণের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর ডিজিএম শহিদুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেকুজ্জামান শামিম, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির, রেডক্রিসেন্ট যুব প্রধান ইয়াসিন আরাফাত, মেহেদী হাসান রিমেল, ইউসুফ ব্যাপারীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।