বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি বহুমুখী সরকারি স্কুলের মাদকবিরোধী সভা ও র‌্যালি

অলি আল্লাহর আদর্শ অনুসরণ করলেই মাদক-জুয়া ও কিশোর গ্যাং থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব’—ওসি মীর মাহবুবুর

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
অলি আল্লাহর আদর্শ অনুসরণ করলেই মাদক-জুয়া ও কিশোর গ্যাং থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করা সম্ভব’—ওসি মীর মাহবুবুর
শাহরাস্তিতে মাদকের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী এক  সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত শাহরাস্তি পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর এলাকায়  শাহরাস্তি বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিদ্যালয় মাঠ থেকে শাহরাস্তি মাজার গেট পর্যন্ত মাদকবিরোধী র‌্যালি বের করা হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত সভায় মাদকের ভয়াবহতা, এর ক্ষতিকর প্রভাব, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া, ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বক্তব্যের শুরুতে শাহরাস্তি বহুমুখী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম সিদ্দিক রহমান হেডমাস্টারের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি তাঁর আদর্শময় জীবন সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করে সেই আদর্শ অনুসরণ করে চলার আহ্বান জানান।
ওসি বলেন, ‘এখানে একজন অলি আল্লাহ শায়িত আছেন। তাঁর নামেই এ বিদ্যালয় ও এ উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। আমরা যদি এই মহান ধর্মপ্রচারক অলি আল্লাহর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ইসলামী জীবনযাপন করি, তাহলে মাদক, জুয়া, কিশোর গ্যাংসহ চলমান সামাজিক অপরাধ যুবসমাজকে গ্রাস করতে পারবে না।
মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে। শিক্ষার্থীদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমাম হোসেন  বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাদক ও ইভটিজিং থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানের প্রতি নজর রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুললেই মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’ সভায় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী র‌্যালিতে শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, অন্যান্য পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক – শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, র‌্যালিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।