বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় দুই মাদক কারবারিকে তাবলিগে পাঠিয়ে সুযোগ দিলেন ওসি আজিজুল

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
কচুয়ায় দুই মাদক কারবারিকে তাবলিগে পাঠিয়ে সুযোগ দিলেন ওসি আজিজুল

মাদক কারবারিদের তাবলিগে পাঠানো দুই ব্যক্তি।

মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, ধীরে ধীরে একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা ও নৈতিক পরিবর্তন। সেই ভাবনা থেকেই চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম

আকাশ নিয়েছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শাহজালাল ও হেলাল নামের দুই ব্যক্তিকে  বারবার মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার পরও যখন তারা জামিনে বেরিয়ে একই কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন তাদের সংশোধনের জন্য ভিন্ন পথ বেছে নেন ওসি আজিজুল ইসলাম। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের থানায় ডেকে এনে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।

জানা যায়, কচুয়া উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের ওই দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মাদক মামলা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতিতে শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি তাদের জীবনধারায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম। তার উদ্যোগে ওই দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠানো হয়।

Model Hospital

তিন দিনের তাবলিগ শেষে মঙ্গলবার জোহরের নামাজ আদায় করে তারা কচুয়া থানায় এসে ওসি আজিজুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তারা প্রতিশ্রুতি দেন, এখন থেকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন, প্রতি মাসে তিন দিন তাবলিগে যাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং আর কখনো মাদক ব্যবসা কিংবা মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত হবেন না।

ওসি মো. আজিজুল ইসলাম আকাশ বলেন, শুধু মামলা দিয়ে সব সময় মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাদের নৈতিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে। আমরা চাই তারা সত্যিকারের ভালো মানুষ হয়ে সমাজে ফিরে আসুক।

তার এই উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি যারা ভুল পথে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের সংশোধনের সুযোগ করে দেওয়া গেলে সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।