সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সকলের সহযোগিতায় চাঁদপুরেও এগিয়ে যাবে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম : জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
সকলের সহযোগিতায় চাঁদপুরেও এগিয়ে যাবে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম : জেলা প্রশাসক

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বেলা ২টায় ওই সংবাদ সম্মেলনের অংশ হিসেবে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
কনফারেন্সে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য শেষে ফ্যামিলি কার্ড এর চাঁদপুর জেলার কার্যক্রম সম্পর্কে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান।
তিনি বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে যখন এসেছেন, তখন রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড দিয়ে চাঁদপুরের ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তিনি নিজ হাতে ফ্যামিলি কার্ড উপকার ভোগীদের হাতে তুলেদেন। চাঁদপুরে যারা কাজ করছেন তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন জেলার প্রত্যেক উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা এই কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাব।
কাজের বর্তমান বিবরণ তুলে ধরেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করে এই তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম আজকে থেকে শুরু হয়েছে। সফটওয়ারের মাধ্যমে স্কোর নির্নয় করবে কোন পরিবার এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে। এই তথ্য সংগ্রহের জন্য সকল পরিবারের বাড়িতে যাবে তথ্য সংগ্রহকারীরা।
 চাঁদপুরে আরো অংশ নেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিক, চাঁদপুর সদর ইউএনও এস এম এন জামিউল হিকমা, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফ,
জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন, সদর সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাহবুব আলম, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুল ইসলাম।
প্রথম পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের নির্বাচিত এলাকা হচ্ছে-চাঁদপুর শহরের ১, ২ ও ৭নম্বর ওয়ার্ড। সদর উপজেলার আশিকাটি, লক্ষ্মীপুর মডেল ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন। হাইমচর উপজেলার নীলকমল, গাজীপুর ও চরভৈরবী ইউনিয়ন। হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কূল পূর্ব, হাটিলা পূর্ব ও কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন। শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া দক্ষিণ, চিতষী পূর্ব ও রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন। কুচয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ, সাচার ও গোহট উত্তর ইউনিয়ন। মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর, খাদেরগাঁও ও উপাদি দক্ষিণ ইউনিয়ন। মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পূর্ব, ফতেপুর পশ্চিম ও গজরা ইউনিয়ন। ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ও রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়ন। স্ব স্ব উপজেলার সমাজ সেবা কার্যালয় এই তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।