শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে গজরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২, ৫:১৮ পিএম
মতলব উত্তরে গজরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র উদ্বোধন

মতলব উত্তর ব্যুরো : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, মা ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। বর্তমান সরকার সবশ্রেণির মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করছে। কোনো ধরণের বৈষম্য নয়, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। তাই তো জননেত্রী শেখ হাসিনা মা ও শিশু স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সব মানুষের দোড়গড়ায় পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। ফলে এখন মাতৃ মৃত্যুর হার অনেকে কমে গেছে।

বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, প্রসূতি মায়েদের নির্ভরতার প্রতীক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপনের মধ্যদিয়ে শিশু, নারী ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আশার আলো জাগিয়েছে। যার কারনে মতলব উত্তরের গজরা ইউনিয়ন ছাড়াও আশেপাশের এলাকার মানুষ সহজেই চিকিৎসা সেবা পাবেন বলে মনে করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। মতলবকে নিয়ে তিনি বলেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মতলব-গজারিয়া সংযোগ সেতু বাস্তবায়ন হবে। এবং এই সেতুটি হবে দেশের দৃষ্টিনন্দন তারের ঝুলন্ত সেতু।

Model Hospital

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. মো. নুরুল আমিন রুহুল।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরিফুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহমদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস, ইষ্ট কেন্ট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউকে) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মেদ সাকেল।

গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান সরকার ওয়াদুদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য লায়ন আরিফ উল্লাহ সরকার, ধর্মবিষয়ক উপকমিটির সদস্য শিল্পপতি কাজী মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান, গজার ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদ উল্লাহ মাষ্টার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, গজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানাউল্লাহ মোল্লা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’