শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার চেষ্টা, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৭

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১, ৪:০৯ পিএম
চাঁদপুরে ইউপি নির্বাচনে সহিংসতার চেষ্টা, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৭

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ভোটগ্রহন বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ ইউপি সদস্যদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। মৈশাদী ইউনিয়নে সহিংসতার চেষ্টা করলে পুলিশ দেশীয় অস্ত্র ও আতংক সৃষ্টিকারী এক প্যাকেট নিষিদ্ধ পটকা উদ্ধার করে। এসব ঘটনায় জড়িত ৭জনকে আটক করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আশিকাটি, রামপুর, শাহমাহমুদপুর, মৈশাদী, বিষ্ণুপুর, তরপুরচন্ডী, বাগাদি, বালিয়া, চান্দ্রা ইউনিয়নে একটানা ভোট গ্রহন হয়। সকাল থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা থাকার কারণে বড় ধরণের কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি। দুপুর ২টার পর থেকে সাধারণ ইউপি সদস্যদের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আটকরা হলেন-মৈশাদী এলাকার মামুন, তামীম, মো. ইমাম হোসেন ও রুবেল। বাকী বহিরাগত আটক ৩ যুবকের নাম পুলিশ দেয়নি।

বিকেল ৩ টার দিকে মৈশাদী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও মৈশাদী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ইউপি সদস্য প্রার্থীদের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহড়া দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ওই সড়ক দিয়ে মটরবাইক নিয়ে যাওয়ার সময় দুই যুবককে আটক করে। তাদের সাথে থাকা এক প্যাকেট নিষিদ্ধ পটকা উদ্ধার করে।

Model Hospital

মৈশাদীতে দায়িত্ব থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাছির জানান, মৈশাদী ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডে দুই সাধারণ ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। ওই স্থান থেকে দেশীয় ধারালো বড় একটি ছুরিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। ৫জন এবং পটকাসহ আটক দুইজনসহ ৭জনকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পাঠানো হয়।

এদিকে রামপুর ইউনিয়নের কামরাঙ্গা কেন্দ্রে ফুটবল মার্কার সাধারণ ইউপি সদস্য সাঈদ ও চাপকল মার্কার প্রার্থী অলি আহমেদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪জন আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত কামরাঙ্গা গ্রামের রাকিব (২৫) ও আজিজ দুলাল (৩৫) কে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এছাড়াও সহিংসতার চেষ্টাকালে বাগাদী ইউনিয়নের বাগাদী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২জনকে র‌্যাব ও চান্দ্রা ইউনিয়নে ১নং মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে ২ জন ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকে আটক করে পুলিশ।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশিদ বলেন, নির্বাচনী কাজে এখনো থানার বাহিরে আছি। আটকদের বিষয়ে এখনো কিছু জানিনা। পরবর্তীতে জানানো হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’