বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে শাহরাস্তিতে প্রসিদ্ধ কালীবাড়ি মাঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মে, ২০২২, ২:১৬ পিএম
কালের বিবর্তণে হারিয়ে যাচ্ছে শাহরাস্তিতে প্রসিদ্ধ কালীবাড়ি মাঠ
রাফিউ হাসান : চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কালীবাড়ি খেলার মাঠ দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। এতে খেলোয়াড় ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, একটি কুচক্রী মহল মাঠটিকে পার্কিং ও বাড়ি নির্মাণের জিনিসপত্র রেখে খেলার মাঠটির পরিবেশকে নষ্ট করছে৷ প্রসিদ্ধ এই মাঠটিতে এক সময় উপজেলার সকল খেলা হতো। যা বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তের পথে৷ দীর্ঘ  ৪ পুরুষের খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত মাঠটি ভূমিদস্যুরা গ্রাস করতে যাচ্ছে। তাদের অপকৌশলে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে যুব, কিশোর থেকে শুরু করে কোমলমতি শিশুরা। এই মাঠে উপজেলা স্কুল, কলেজের আন্তঃক্রীড়া প্রতিযোগিতা,বাৎসরিক মেলা, প্রসিদ্ধ কালীবাড়ি মন্দিরে কালীপূজোয় মাসিক মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। গত কয়েক বছরে করোণার মহামারীতে এসব বন্ধ থাকায় একদল অর্থলোভী মহল মাঠটিকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থী, কোমলমতি শিশুরা মাঠটি ব্যবহার করতে পারছে না।
পৌর পানির পাম্প ও ভূমি অফিসের পাশ দিয়ে পরিবেশ দূষণ করে এমন পরিবেশে ফেলা হচ্ছে বাসা বাড়ি ও বাজারের সকল ময়লা। কালীবাড়ি বাজারের সকল গরু ও ছাগল জবাইয়ের জন্য কসাইরা মাঠটি ব্যবহার করছে। যার ফলে মাঠের পশ্চিম কোণায় গরু ও ছাগলের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে রাখায় তা পঁচে গিয়ে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতির পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়ি বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানের পন্যবাহী গাড়ী রাখার স্থান হয়ে উঠছে মাঠটিতে। মাঠটির এক কোণায় সিএনজি স্ট্যান্ডের সকল গাড়ি রাখা হয়, যার ফলে খেলার মাঠটি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। সকল যানবাহন মাঠটিকে পার্কিং এরিয়া বানানোয় মাঠটি দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চাকায় পিষ্ট মাটিগুলো বালিতে পরিণত হয়ে দিন দিন পরিবেশ দূষণে মারাত্নক প্রভাব ফেলছে। যার জন্য স্থানীয়রা শ্বাসকষ্টসহ হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
মাঠে যাতে শিশুরা খেলতে না পারে সেজন্য মাঠে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে ইটের খোয়া। পূর্বে খেলার মাঠটি নিজমেহার মডেল স্কুল মাঠ নামে পরিচিতি রয়েছে। কী কারণে এই খেলার মাঠ দখল করে পার্কিং তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে সেটা সকলে বুঝলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। স্থানীয়রা আরও জানান, এলাকার লোকজন শিশুদের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত করে মাঠটিকে অন্য কিছুর জন্য দিতে চান না। পৌর শহরে খেলার মাঠের অভাব রয়েছে।
নিজমেহার মডেল পাইলট স্কুল এর প্রধান শিক্ষক আজাদ মোল্লা বলেন, মাঠটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি বিধায় বিদ্যালয়ের খরচে বেষ্টনী দিয়ে পার্কিং রোধে ব্যবস্থা নিয়েছিলাম৷ তবে কে বা কারা রাতের আঁধারে বেষ্টনীগুলো উঠিয়ে বর্তমানে পার্কিংয়ের জন্য হরদমে ব্যবহার করছে৷ এতে করে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকায় স্থানীয় কিশোর ও যুব সমাজ খেলাধূলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷ তাই মোবাইলে আসক্ত হওয়া সন্তানদের চাইলেও তাদের মাঠে ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না৷ ময়লার দূর্গন্ধে আমাদের বিদ্যালয়ে ক্লাস করাও দূরহ হয়ে পড়ছে৷ এমতাবস্থায় আমি মাননীয় এমপি মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সমাজকর্মী সুমন মিয়াজি মাঠ দখল প্রসঙ্গে বলেন, শিশুদের মানুষিক বিকাশে খেলাধূলার বিকল্প নাই। তাছাড়া এভাবে ধীরে ধীরে মাঠ দখলের ফলে আমরা অর্থব ও মেরুদন্ডহীন প্রজন্ম তৈরী করছি।
মাঠ দখল ও ময়লা ফেলা প্রসঙ্গে পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, জোর করে খেলার মাঠ দখল করার প্রশ্নই ওঠে না! বাজারের পণ্যবাহী গাড়িগুলোর রাখার জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সেখানে চালকরা রাখেন, তাদেরকে সতর্ক করার পরেও তারা তা শুনেন না। তাছাড়া বাজারের লোকগুলোকে ময়লা না ফেলার জন্য নির্দেশনা দিলেও তারা শুনছে না, আমি এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়রকে জানিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন রশীদ বলেন, মাঠটি সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই মাঠটি দখলদারমুক্ত করা হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital