শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

বাম্পার ফলনে মরিচ চাষীদের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মে, ২০২২, ৪:২৪ এম
বাম্পার ফলনে মরিচ চাষীদের মুখে হাসি

মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুরে এ বছর কৃষকের যে পরিমাণ মরিচ উৎপাদনের ধারণা ছিল তার চাইতে বেশি পরিমাণ কৃষি জমিতে মরিচের চাষাবাদ করায় এর উৎপাদন ভালো হয়েছে। এতে করে অতিমাত্রায় মরিচের এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে। চাঁদপুর কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪২০ মেট্টিকটন ও চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯০০ হেক্টর। এবার উৎপাদন ও চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ মরিচ উৎপাদন হয়েছে।

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণের দেয়া তথ্য মতে, উৎপাদন ও চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে জানা যায়। জেলার সব উপজেলার মধ্যে সদর, হাইমচর ও মতলবের চরাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক হারে মরিচ আবাদ হয়েছে। চাঁদপুরে নদীবিধৌত, আবহাওয়ার অনুকূলে পরিবেশ, পরিবহনে সুবিধা, কৃষকদের মরিচ চাষে আগ্রহ, কৃষি বিভাগের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রযুক্তি প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত, কৃষি উপকরণ পেতে সহজলভ্যতা, বীজ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষিবিদদের ভালো পরামর্শ, ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান ইত্যাদি কারণে চাষিরা মরিচ চাষে আগ্রহী বলে জানিয়েছে চাঁদপুর কৃষি বিভাগ।

বিশেষ করে নদীর পশ্চিমপাড়ের চরাঞ্চলগুলোতে এ বছর বিগত বছরের তুলনায় অধিক ও ব্যাপক পরিমাণ মরিচ উৎপাদন হওয়ায় কৃষান ও কৃষানিদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের বন্যা বইতে দেখা গেছে।

Model Hospital

খামারবাড়ি চাঁদপুরের সূত্র মতে জানা গেছে, সদরে চাষাবাদ ২১০ হেক্টর এবং উৎপাদন হয়েছে ৩৭৮ মেট্টিকটন, মতলব উত্তরে চাষাবাদ ৫২০ হেক্টর এবং উৎপাদন ৯৩৬ মেট্টিকটন, মতলব দক্ষিণে চাষাবাদ ৭০ হেক্টর এবং উৎপাদন ১৬২ মেট্টিকটন । হাজীগঞ্জে চাষাবাদ ৯০ হেক্টর এবং উৎপাদন ১৬২ মেট্টিকটন, শাহরাস্তিতে চাষাবাদ ২০ হেক্টর এবং উৎপাদন ৩৬ মেট্টিকটন, কচুয়া চাষাবাদ ৬৫ হেক্টর এবং উৎপাদন ১৮৭ মে. টন। ফরিদগঞ্জে চাষাবাদ ৪৫ হেক্টর এবং উৎপাদন ৮১ মেট্টিকটন এবং হাইমচরে চাষাবাদ ৮৮০ হেক্টর এবং উৎপাদন ১ হাজার ৫৮৪ মেট্টিকটন।

মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের কৃষক ইব্রাহিম গাজী জানান, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর মরিচের অনেকগুণ ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করেছেন। উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের চরওমেদের কৃষক আলাউদ্দিন বেপারী, রায়হান’সহ কয়েকজন জানান, চরাঞ্চলে এবার মরিচের ফলন ভালো হওয়ায় তারা আনন্দিত। বর্তমানে দ্রুত ক্ষেত থেকে মরিচ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষান ও কৃষানিরা।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, সব উপজেলার মধ্যে সদর, নদীর পশ্চিমে হাইমচর ও মতলব উত্তরের চরাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক হারে মরিচ আবাদ হয়েছে। আমরা সময়মতো কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। এবছর ৩ হাজার ৪২০ মেট্টিকটন মরিচ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯০০ হেক্টর।

শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি আয়োজনের সিদ্ধান্ত

চাঁদপুরের শাহরাস্তি সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন।

সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ ইমাম হাসান সুমন বলেন, শতবর্ষ পূর্তি একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবের আয়োজন। এ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও সফল করতে এখন থেকেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ এবং আয়োজন বাস্তবায়নে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা জরুরি। তিনি সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ও পরামর্শ দেন।আলোচনা শেষে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে দুজন করে সাবেক শিক্ষার্থী নিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের সুবিধাজনক সময়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

Model Hospital

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ঈমাম হোসেন বলেন, ‘শতবর্ষ পূর্তি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়। সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা ছাড়া এত বড় আয়োজন সফল করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা অনুষ্ঠানটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চাই।

শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মরহুম সিদ্দিকুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের সব প্রয়াত ও  শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।যে কয়জন জীবিত শিক্ষক রয়েছে তাদের সম্মাননা দেওয়া বিষয়ে অভিমত তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে শতবর্ষের এই প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলার পেছনে যাঁরা ভূমি, অর্থ, শ্রম ও নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে অবদান রেখেছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশেষভাবে প্রয়াত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বক্তব্য দেন। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও প্রিয় পথপ্রদর্শক। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক। আমরা তাঁর অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি চাই।

সভায় শতবর্ষ উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ আহ্বায়ক কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।