শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ উপলক্ষে শুমারি স্থায়ী কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২, ৪:৪৭ পিএম
শাহরাস্তিতে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ উপলক্ষে শুমারি স্থায়ী কমিটির সভা
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ উপলক্ষ্যে  শুমারি স্থায়ী কমিটির অবহিতকরণ এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন ও পরিসংখ্যান কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসের কনফারেন্স রুমে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
এবার জনশুমারিতে তথ্য দিন পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে  উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার অনামিকা ভদ্রের সঞ্চালনায় শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহি অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হুমায়ন রশিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান চৌধুরী শেফালী । দেশে প্রথম ডিজিটাল শুমারি বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিসংখ্যান অফিসার অনামিকা ভদ্র।
এ বিষয়ে সভাপতি বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার বলেন, অতীতে এই জনশুমারি ও গৃহগণনা এই কার্যক্রমটি “আদমশুমারি” নামে অতীতে সকলের নিকট পরিচিত ছিল। কালের বিবর্তনে সময়ে সাথে সরকার দেশে প্রথমবারের মতো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ও মাঠ পর্যায়ে প্রত্যক্ষ জনবল দিয়ে প্রথমবার ডিজিটাল এ জনশুমারি সম্পাদনের লক্ষ্যে  আগামী ১৫-২১ জুন  দিনক্ষণ সময় নির্ধারণ করেছে। উক্ত সময়ে এটি বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ওই সময় উক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য সকলের নিকট সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি । এছাড়া তিনি এই জনশুমারি গুরুত্ব আরোপ করে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা  সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আমজাদ হোসেন, শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মোঃ আব্দুল মান্নান, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী হুমায়ুন কবির, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মকসুদুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার আহসান উল্লাহ চৌধুরী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবু ইসহাক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌসিফ উদ্দিন প্রমুখ।
এছাড়া শাহরাস্তি  উপজেলার ১০টি ইউপির চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’