শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এসএসসি পরীক্ষা; মতলব উত্তরে প্রথমদিনেই ঝরে গেলো ৩১ পরীক্ষার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১, ৩:১৭ পিএম
এসএসসি পরীক্ষা; মতলব উত্তরে প্রথমদিনেই ঝরে গেলো ৩১ পরীক্ষার্থী

মতলব উত্তর ব্যুরো : দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর এই প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় বসল শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেড় ঘণ্টা সময়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা। তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী মো. শরিফুল হাসান বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

সকালে ছেংগারচর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী মো. শরিফুল হাসান বলেন, উপজেলার ৮টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু সুন্দর ভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মনিটরিং টীম গঠন করা হয়েছে।

রোববার থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। স্বাস্থবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হয় বেলা সাড়ে ১১টায়। মতলব উত্তর উপজেলার ৭টি এসএসসি ও ১টি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রথমদিন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৫শ’ ৮০ পরীক্ষার্থী। অনুপস্থিত এসএসসিতে ৯, মাদরাসায় ১৪ ও ভোকেশনালে ৮জন পরীক্ষার্থী ছিল।

সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে রোববার সকাল ১০টায় পরীক্ষায় বসে শিক্ষার্থীরা। দেড় ঘণ্টার পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের লিখিত অংশে ৮টি প্রশ্নের মধ্যে ২টির উত্তর দিতে হয়। এমসিকিউ অংশে ২৫টির মধ্যে দিতে হয় ১২টির উত্তর। মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের লিখিত অংশে ১১টির মধ্যে ৩টি এবং এমসিকিউ অংশে ৩০টির মধ্যে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

Model Hospital

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা না হলেও এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছরের শুরু থেকেই দুটি পরীক্ষাই আয়োজনের কথা বারবার বলে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’