শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তির ১০টি ইউপিতে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা ঢাকায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১, ২:২৯ পিএম
শাহরাস্তির ১০টি ইউপিতে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা ঢাকায়
স্বপন কর্মকার মিঠুন : শাহরাস্তির ১০টি  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে ফরম সংগ্রহ করেছেন।
গত ১২ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর দলীয় ফরম সংগ্রহের কার্যক্রম চলবে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানায়। চতুর্থ দপায় এই উপজেলার মোট ১০ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয় গত ১০ নভেম্বর। আগামী ২৩ ডিসেম্বর ওই সব ইউনিয়নের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন ( সিইসি) অফিস সূত্রে জানা যায়।
উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এবং গত নির্বাচনে পরাজিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীসহ দলীয় একাধিক নেতা- সদস্য দলের ফরম সংগ্রহ করেন। তবে  উপজেলা আওয়ামীলীগ বর্ধিত সভা করে তৃনমূলের নেতা- কর্মীদের প্রস্তাব সমর্থনের আলোকে ১০ টি ইউনিয়নে মোট ৭২ জন দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকাই জেলা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রেরণ করে। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অধীর অপেক্ষায় সময় গুনছে।
দলের বিভিন্ন একাধিক সূত্রে জানাযায়, এবার দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেক পরীক্ষায় উন্নিত হতে হবে। যারা অতিতের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে না কাজ করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে এমনকী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে গোপনে কল- কাঠি লেড়ে নৌকাকে ডুবাতে উঠে পড়ে লেগেছিল তাদের বায়োডাটা ও আমল নামা সংগ্রহ চলছে। এছাড়া বিগত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে যারা বিজয় হয়ে ছিলো তাদের বরাতে দলীয় মনোনয়ন থাকবে কী না তা কেন্দ্রীয় কমিটি আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলের একাধিক সূত্রে জানিয়েছে।
যারা আওয়ামীলীগের ভেতরে থেকে বিএনপি- জামাত জোটের প্রার্থীদের পক্ষে গোপনে সহযোগীতা ও প্রার্থীতা করার ইন্দন দিয়ে আসছে তাদের চিহ্নত করণ প্রক্রিয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নিতে পারে বলে সূত্রে প্রকাশ।
অপর দিকে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্য রায়শ্রী উত্তর ও দক্ষিন ইউনিয়নে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহন হবে। এই উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায় প্রথম ইভিএম ভোট গ্রহন হতে যাচ্ছে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’