শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু’সহ আহত ২০: এলাকা জুড়ে আতঙ্ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২, ১১:৩৩ এম
মতলব উত্তরে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু’সহ আহত ২০: এলাকা জুড়ে আতঙ্ক

মতলব উত্তর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু শহ প্রায় ২০ জন মানুষ আহত হয়েছে।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, উপজেলার আদুুরভিটি, ছেংগারচর, জীবগাঁও, দেওয়ানজিকান্দি গ্রামে মঙ্গলবার (১৪ জুন) সকালে লাল বর্নের একটি পাগলা কুকুর প্রায় ২০জন মানুষ কে কামড়িয়ে জখম করে। এ খবর শুনে ঐ এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। 

পাগলা কুকুরের কামড়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য এলাকায় যুবসমাজ কুকুরটিকে ধরার জন্য ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে। তাদের কারো হাতে, পায়ে কোমড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়ে মারাত্মক যখম করে। যখমীদের মধ্যে শিশু হইতে বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছে। যখমীদের অনেকেই মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন এবং অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এর মধ্যে ছেংগারচর গ্রামের টিপু সুলতানের মেয়ে তৃপ্তি (০৬) আশঙ্কাজনক থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে সরজমিনে জানা যায়।
পাগলা কুকুরের কামড়ে জখম হলেন আদুরভিটি গ্রামের মজিবুর রহমানের শিশু কন্যা আয়েশা আক্তার (০৫), একই গ্রামের মজিবুর রহমানের শিশু কন্যা মীম আক্তার (০৫), মোখলেছুর রহমানের ছেলে সাকিব (০৯), আবুল কালামের মেয়ে আহিবা আক্তার (০৭), ওয়াজ উদ্দিনের মেয়ে লামিয়া (১০), লুব হোসেন সরদার (৬০), ফারুক হোসেন (৩২), ছেংগারচর গ্রামের টিপু সুলতানের শিশু কন্যা তৃপ্তি আক্তার (০৬), দেওয়ানজিকান্দি গ্রামের আবু মুছার শিশু কন্যা নাফিজা আক্তার (০৫), জীবগাঁও গ্রামের নুর মোহাম্মদ (৮৫)সহ আরো কয়েকজন পাগলা কুকুর কামড়িয়েছে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী নাফিজা আক্তারের মা সুফিয়া বেগম জানান, আমার বাচ্চা মেয়েটা বাড়ির সামনে দাঁড়ানো। হঠাৎ করে একটি কুকুর এসে আমার মেয়ের পায়ের উপরের অংশে কামড় দেয়। আমি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছি।
আরেক ভুক্তভোগী আয়েশা আক্তারের বাবা মজিবুর রহমান জানান, আামার মেয়ে সকালে আরবি পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় হঠাৎ কুকুর এসে তার পায়ে কামড় দেয়। পরে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে তাকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এক জনের অবস্থা আশঙ্কা থাকায় তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে। কুকুরের কামড়ে শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ছেংগারচর পৌরসভার প্রশাসক হেদায়েত উল্ল্যাহ জানান, ক্ষিপ্র প্রকৃতির কুকুর পথে-ঘাটে, বাড়ি এলাকায় যাকে পাচ্ছে তাকেই কামড় ও আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুকুর নিধন অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এসব ক্ষিপ্র প্রকৃতির কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কুকুরকে উত্যক্ত না করে সতর্কভাবে চলাচলের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’