বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ

সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসার বার্ষিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন।

চাঁদপুর শহরের আদশ্য বিদ্যাপীঠ আনোয়ারা -মতিউর মডেল মাদরাসায় বার্ষিক ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী জিটি রোড উত্তর এলাকাস্থ মাদরাসা মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন। তিনি বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা অর্জন করতে ইসলাম তাগিদ প্রদান করেছেন। আর সেই আলোকে যদি আমরা শিক্ষা অর্জন করি— তাহলে সেটা হবে নিজের জন্য, দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য। সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রমিত বৃথা যাবে। তাই সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে বাবা মাকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। পাশাপাশি তারা যেন এমন শিক্ষা পায়, যা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

তিনি বলেন, পৌরসভার নাগরিক হিসেবে ১৫নং ওয়ার্ড উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। তার সাথে লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে। বিশেষ করে জিটি রোড উত্তর এলাকার মানুষের জীবন যাপন দেখলে বুঝা যায়, তারা রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা থেকে কতটা পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয় এখানকার নাগরিকদের শুধুমাত্র ভোট আর ট্যাক্সের জন্য পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পৌরসভার সেবা দিতে নয়। আপনাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে, আগামীতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অনেক বেশি সর্তককে এবং দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন ব্যক্তিকে পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন, যিনি সত্যিকার অর্থে আপনার আমানতের প্রতিদান দিবে।

আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, সমাজকে উন্নত করতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর সেই শিক্ষাটা হতে হবে আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা। বর্তমানে চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব কিশোরগ্যাং ও মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এমনসব সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে নানাবিধ উদ্যোগ গ্ৰহণ করছেন। আমাদের সাংবাদিক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজী তার বাবা মায়ের নামে জিটি রোড এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন‌‌। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চা এবং শৃঙ্খলা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এজন্য আমার পক্ষ থেকে মাওলানা মোঃ আবদুর রহমানসহ সকল শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

Model Hospital

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ সুমন খান ও দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল হক বেপারী।

মাদরাসার শিক্ষক মহিবুর রহমান মহিব্বুলাহর সঞ্চালনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মাদরাসার শিক্ষক মোঃ রাশেদ হোসেন, মোঃ আঃ ছাত্তার খাঁন ও আব্দুল আলী আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ( গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য)  আশিক বিন রহিম, এলাকার মুরব্বি ও শিক্ষানুরাগী মোঃ মিজানুর রহমান মিজি, মোঃ লোকমান হোসেন তালুকদার, মাদরাসার শিক্ষক মোঃ আবুল খায়ের, মোঃ জসিম উদ্দিন ও বোরহান সাইফ।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও কবিতা আবৃতিতে শ্রেণীভিত্তিক অংশ নেন। বিজয়ীদের আগামী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বাদ মাগরিব পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অভিভাবক সমাবেশ শেষে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন।