বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

সন্তান জন্মের কয়েক দিন পরই ট্যাংক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সৈনিক পিয়াসের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৬ পিএম
সন্তান জন্মের কয়েক দিন পরই ট্যাংক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সৈনিক পিয়াসের

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে সন্তানের বাবা হয়েছিলেন তিনি। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনা সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

Model Hospital

চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এ তরুণ সৈনিকের জীবন যেন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়, কয়েক দিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এল তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান।

পিয়াসের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। যে মানুষটি পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই, যে মানুষটি কয়েক দিন আগেই বাবা হওয়ার আনন্দে পরিবারকে মাতিয়েছিলেন—তাঁর নিথর দেহ এখন স্বজনদের কাছে কেবলই এক অসহনীয় বাস্তবতা।

পিয়াসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন। স্থানীয়রা জানায়, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তাঁর এমন অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, ‘সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তাঁর চলে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

শাহরাস্তিতে ২০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
শাহরাস্তিতে ২০০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ জাহাঙ্গীর আলম (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) শাহরাস্তি পৌরসভার শ্রীপুর এলাকার ঠাকুর বাজার থেকে মাজার সড়কের বালুর মাঠসংলগ্ন পাকা সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহরাস্তি মডেল থানা-পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ নাথসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর হেফাজত থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম শাহরাস্তি উপজেলার টামটা এলাকার শিংয়ের বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আব্দুল বাছেত এবং মায়ের নাম ফিরোজা বেগম।

Model Hospital

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির এফআইআর নম্বর ১৫, তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।