শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুলেল শুভেচ্ছায় চাঁদপুর জেলা পরিষদ থেকে বিদায় নিলেন ওচমান গণি পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:২৬ পিএম
ফুলেল শুভেচ্ছায় চাঁদপুর জেলা পরিষদ থেকে বিদায় নিলেন ওচমান গণি পাটওয়ারী

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদ চাঁদপুর’এর প্রশাসক আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারীকে চাঁদপুর জেলা পরিষদ কর্মকতা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী প্রশাসককে সংবর্ধনা ও আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

সদ্য বিদায়ী জেলা পরিষদ চাঁদপুরের প্রশাসক আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী জেলা পরিষদেও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উর্দেশ্য করে বলেছেন, আপনারা সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। এভাবে আপনাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকলে সরকার আপনাদেও সত্যিকার অর্থে মূল্যায়িত করবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সেবার উদেশ্যেই জেলা পরিষদে এসেছিলাম, আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেয়ে সেবা করে গেলাম ৫ বছরের ও অধিক সময়কাল। আগামীতেও এ জেলা বাসীর সেবা করতে চাই। তাই আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হয়ে সকলের দোয়া কামনা করছি।

তিনি বলেন,আমি দায়িত্ব পালন কালীন এ জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবার সহযোগিতা পেয়েছি, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। তিনি আরো বলেন, জেলা পরিষদে আমি ৫ বছর ৭ মাস দায়িত্ব পালন করেছি। আপনারা আমার প্রতিটি কাজে আমাকে সর্বাত্বক ভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে আমি সফল ভাবে কাজ করতে পেরেছি। যা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার(১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পরিষদ চাঁদপুরের অফিস কক্ষে জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজনে দেয়া বিদায় সংবর্ধনা ও আলোচনার অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রশাসক হিসেবে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

Model Hospital

জেলা পরিষদ চাঁদপুরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মহোদয় অত্যান্ত ভালমানের এবং একজন দক্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি আমাদেও সব সময় ছায়া দিয়ে রেখেছেন। তিনি সকল কাজে সর্বাত্বক সহযোগিতা করেছেন। তাঁর সহযোগিতার কারনে পরিষদটি সুষ্ঠুভাবে ও সফল ভাবে সকল কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। তিনি বিদায়ী প্রশাসক আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

বিদায় সংবর্ধনা ও আলোচনার অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ চাঁদপুরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, হিসাব রক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন, প্রধান সহকারী মোঃ মজিবুর রহমান, উচ্চমান সহকারী কুদ্দুছ ভাট, উচ্চমান সহকারী মোক্তার হোসেন, সার্ভেয়ার নাসির উদ্দিন, অফিস সহকারী সায়েম পাটওয়ারী প্রমুখ। এ সময় জেলা পরিষদ চাঁদপুরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা,কর্মচারীরা ছাড়াও বিভিন্ন অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জেলা পরিষদ চাঁদপুর এর প্রশাসক আসন্ন জেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার লক্ষ্যে আগাম গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে তাঁর জেলা পরিষদ চাঁদপুরের প্রসাশক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি সকলের কাছে আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য দোয়া ও সর্বাত্বক ভাবে সহযোগিতা কামনা করেছেণ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’